সাত ঘণ্টা আটকে থাকার পর উদ্ধার প্রবাসীর স্ত্রী ও ছাত্রদল নেতা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে ইতালি প্রবাসীর স্ত্রী ও এক ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে মারধর করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে থাকার পর সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পুলিশের মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গজারিয়া গ্রামের বেপারি বাড়ির একটি ঘর থেকে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন ওই গ্রামের ইতালি প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী জ্যোতি বেগম (৩৩) এবং একই এলাকার ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সাইম মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া গ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়াকে সাগরপথে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর জন্য একই এলাকার লোকমানের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পর ইয়াছিন ইতালিতে পৌঁছান বলে জানা গেছে। তবে ইয়াছিনের পরিবারের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে লোকমানের কাছে তাঁদের টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকা আদায়ের জন্য সোমবার দুপুর ২টার দিকে ভৈরবে যাওয়ার পথে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে লোকমানের বোন জ্যোতি বেগম ও তাঁর বন্ধু সাইম মিয়াকে নামিয়ে মারধর করা হয়। পরে ইয়াছিনের বাবা বকুল মিয়া ও চাচা গোলাপ মিয়া তাঁদের বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। লোকমানের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ছাড়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা বিষয়টি ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান। এরপর তাঁদের উদ্ধারে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলেও প্রথম দফায় সফল হয়নি বলে জানা গেছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ আবার ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেবারও তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে নয়জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। এরপর রাত ১০টার দিকে পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী সাইম মিয়া বলেন, “লিবিয়ায় থাকা লোকমান আমার বন্ধু। সোমবার দুপুর ২টার দিকে তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে ভৈরবে যাওয়ার পথে আমাদের সিএনজি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। পরে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তারা লোকমানকে ফোন করে পাওনা টাকা দিয়ে আমাদের ছাড়িয়ে নিতে বলে। এভাবে প্রায় সাত ঘণ্টা আমাদের আটকে রাখা হয়।”
জ্যোতি বেগম বলেন, “মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য ভৈরবে যাচ্ছিলাম। পথে আমাকে ও আমার ভাইয়ের বন্ধুকে আটকে মারধর করা হয়। আমার ভাইয়ের কাছে টাকা পাওনা থাকলে তার সঙ্গে হিসাব করবে। আমার ভাই চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের ছেলেকে ইতালি পাঠিয়েছে। তাহলে আমার ওপর কেন এমন নির্যাতন করা হবে?”
এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, “বিকেলে থানা থেকে কারা তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন, তা আমি জানি না। রাতে দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরে আটকে থাকা দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।