ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বোরহানউদ্দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাক্স আদায়: টিনের ঘরে ৩০০, পাকা ঘরে ৫০০ টাকা, দুই প্রতারক গ্রেপ্তার

বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:১১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
বোরহানউদ্দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাক্স আদায়: টিনের ঘরে ৩০০, পাকা ঘরে ৫০০ টাকা, দুই প্রতারক গ্রেপ্তার
বোরহানউদ্দিনে গ্রেপ্তার দুই প্রতারক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে টিনের ঘর থেকে ৩০০ টাকা এবং পাকা ঘর থেকে ৫০০ টাকা করে ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ছাপানো রসিদ নিয়ে ট্যাক্স আদায় করতে যান এক যুবক। এ সময় স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা তার পরিচয় ও ট্যাক্স আদায়ের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তিনি নিজের নাম মো. রিয়াজ এবং পিএসবি প্রজেক্টের নিয়োগ করা খণ্ডকালীন ট্যাক্স কালেক্টর বলে পরিচয় দেন। তবে কিসের ভিত্তিতে এবং কার অনুমতিতে তিনি ট্যাক্স আদায় করছেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

পরে স্থানীয়রা হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। ওই যুবকের কথাবার্তায় অসংগতি ও মিথ্যা তথ্যের সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে প্রতারক চক্রের অপর এক সদস্য তাকে নিয়ে যেতে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা দুজনকেই অবরুদ্ধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ইমান আলীর ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছফদ্দি মাহমুদের ছেলে মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি উপজেলার সাচড়া, কাচিয়া, পক্ষিয়া ও হাসাননগর ইউনিয়নে নিজেদের ট্যাক্স কালেক্টর পরিচয় দিয়ে বসতভিটার কর আদায় করছিল। এ কাজে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক, ইউপি সচিব এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন তারা।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন। হাসাননগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও প্রশাসকের কাছ থেকে তিনি যতটুকু জেনেছেন, তাতে ট্যাক্স আদায়ের সময় আটক ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন।

ইউএনও আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আরোপের ক্ষমতা রয়েছে। পরিষদ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অথবা অন্যদের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফ আলী বলেন, এ ঘটনায় দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!