ঢাকা,  সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
তালাবদ্ধ ভবন, আগাছায় ঢেকেছে চত্বর; চুরি হয়েছে ৫০ লাখ টাকার সরঞ্জাম

১৯ কোটি টাকার হাসপাতাল চালু হয়নি তিন বছরেও

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:১৮, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কোটি টাকার হাসপাতাল চালু হয়নি তিন বছরেও
সিরাজগঞ্জ কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী ২০ শয্যা হাসপাতাল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ীতে ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি। ২০১৯ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, ভবনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা। ফলে চিকিৎসক-কর্মচারীদের আবাসনসহ কোটি টাকার অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। এরই মধ্যে হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। ভবনের চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। পুরো চত্বর ছেয়ে গেছে ঘাস ও আগাছায়। সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা হাসপাতালটির দোতলা মূল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি পৃথক ভবন। এর মধ্যে দুটি দোতলা এবং একটি তিনতলা। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন এবং জেনারেটর রাখার জন্য রয়েছে আলাদা দুটি ভবন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় এর বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি, মালামাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। অথচ হাসপাতালটি চালু হলে কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পেতেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ শেষে ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভবনটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে জনবল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের সরঞ্জাম চুরির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন জনবলের অভাবে হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় সেখানকার অনেক সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে শুনেছেন।

সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমিন উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল থেকে তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, বাতি, স্যানিটারি সামগ্রী, জেনারেটরের যন্ত্রাংশ এবং অস্ত্রোপচার কক্ষের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। পাশাপাশি চুরির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারের মাধ্যমে ২০২৩ সালের মে মাসে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ভবন হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণে মোট ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা। এর মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণে ১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণে ৩ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা ব্যয় হয়েছে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, হাসপাতালের সরঞ্জাম চুরির মামলায় সন্দেহভাজন ১১ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন নুরুল আমিন বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব। চুরির ঘটনার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, হাসপাতাল চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ/এমকে
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!