এখনো সফটওয়্যার বানাচ্ছেন ৭৪ বছর বয়সী দেশের প্রথম নারী প্রোগ্রামার
দেশের প্রথম নারী প্রোগ্রামার শাহেদা মুস্তাফিজ ৭৪ বছর বয়সে এসেও সফটওয়্যার বানিয়ে চলেছেন। শাহেদা মুস্তাফিজের সময়ে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সাইন্স পড়ানো হতো না। তবে থেমে থাকেননি তিনি। অর্থনীতিতে পড়াশোনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের এনসিআর কর্পোরেশনে সফটওয়্যার আর্কিটেকচার নিয়ে এক বছরের প্রশিক্ষণ নেন শাহেদা মুস্তাফিজ। ১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ শাখায় সিস্টেমস ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। অগ্রণী ভূমিকা রাখেন দেশের ব্যাংক অটোমেশন বা ব্যাংকিং সফটওয়্যার তৈরিতে।
শাহেদা মুস্তাফিজ গণমাধ্যমকে জানান ৪৭ বছর আগে তার সেক্টরে কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতার কথা। তিনি জানান, সেই সময় দেশে হাতে গোনা কয়েকটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ছিল, যেগুলো বিদেশে সফটওয়্যার রফতানি করত। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সবাই ছিলেন পুরুষ। কারণ তখন কোনো নারী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন না। সুযোগও ছিল না। দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কম্পিউটারসায়িন্স পড়ানো হতো না।
যুক্তরাষ্ট্রের এনসিআর কর্পোরেশনে সফটওয়্যার আর্কিটেকচারে র উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৭৬ সালে সে প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ শাখায় সিস্টেমস ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে এনসিআরের বাংলাদেশ অংশ কিনে নেয় দেশের প্রথম দিককার সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান লিডস কর্পোরেশন। শাহেদাও লিডসের কাজ শুরু করেন, অগ্রণী ভূমিকা রাখেন দেশের ব্যাংক অটোমেশন বা ব্যাংকিং সফটওয়্যার তৈরিতে। বিশেষ অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) পরিচালনার সফটওয়্যারের প্রোগ্রামিংয়ে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।
শাহেদা মুস্তাফিজ এনসিআর ও লিডসে ২২ বছর কাজ করেন। ১৯৯৮ সালে চাকরিতে ইস্তফা দেন। এরপর গড়ে তোলেন নিজের প্রতিষ্ঠান প্রবিতি সিস্টেমস। বিদেশে সফটওয়্যার রফতানিতে এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া তিনি কানাডার টোয়েন্টি-টোয়েন্টি টেকনোলজিস ইনকর্পোরেটেডের বাংলাদেশ শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ই-টেকলজিকস ইনকরপোরেটেডের বাংলাদেশ শাখায় নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এসবের বাইরে তিনি শিশুদের জন্য এবং বিশেষ করে নারীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালনা করেছেন। শাহেদা মুস্তাফিজ চার মেয়ে ও এক ছেলের মা। তার স্বামী প্রয়াত মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন একজন ব্যাংকার।
শাহেদা মুস্তাফিজের জন্ম ১৯৪৯ সালে। এখনো সফটওয়্যার তৈরিতে সক্রিয় তিনি। ছেলে রিদওয়ান মুস্তাফিজের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান রাইট সলিউশনের সফটওয়্যার বিভাগের দেখভাল করেন শাহেদা মুস্তাফিজ। কাজ করছেন বেশ কিছু সফটওয়্যার নিয়ে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের এই প্রথম নারী প্রোগ্রামার গণমাধ্যমকে বলেন, নারীরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদান রাখছেন। তবে এখনো সন্তান-সংসারের পুরো দায়িত্ব নারীর একার। আমাদের কর্মজীবন আর পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য করে চলতে হয়। কিন্তু কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের জন্য দীর্ঘ সময় প্রোগ্রামিং নিয়েই কাটাতে হয়। আমাদের সমাজে এটা সব সময় সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। প্রোগ্রামিংয়ে নারীরা কম আসেন ঠিকই, তবে যারা আসেন, তারা কিন্তু খুব ভালো কাজ করেন।