ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ২৬ শে মার্চ ]

অযত্ন-অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের স্মৃতিস্তম্ভ-জাদুঘর

ফয়জুল ইসলাম জাহান, নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১১:৪৩, ২৬ মার্চ ২০২১
অযত্ন-অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের স্মৃতিস্তম্ভ-জাদুঘর
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন

বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ২ নম্বর সেক্টরে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহিদ হন। খুলনার রূপসা নদীতে নৌ-বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পলাশ’র ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার থাকাকালীন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় নিহত হন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রুহুল আমিনকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তার স্মৃতি রক্ষায় নির্মাণ করা হয় স্তম্ভ, জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তানের স্মৃতিগুলো।

রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৪ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেউটি ইউনিয়নের বাগপাঁচরা গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ আজাহার পাটোয়ারো ও মা জুলেখা খাতুন।

Advertisement

বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিনের স্মৃতিস্তম্ভ কাম ফোয়ারা

১৯৫১ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হয়েই নৌ-বাহিনীতে নায়েক পদে যোগদান করেন রুহুল আমিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযদ্ধের সময় তিনি ছিলেন নৌ-বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পলাশ’র ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার। ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর খুলনার রূপসা নদীতে ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করছিলেন রুহুল আমিন। ওই সময় পাকি বিমানবাহিনীর একটি গোলা এসে যুদ্ধজাহাজ ‘পলাশ’র উপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রুহুল আমিন।

বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিনের সম্মানে স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণের পাশাপাশি তার গ্রামের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। বাগপাঁচরা নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শহিদ রুহুল আমিন নগর’।

বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিনের পাঁচ সন্তান। দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় ছেলে বাহার ২০ বছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে শওকত আলী, মেয়ে নূরজাহান বেগম, রিজিয়া বেগম, ফাতেমা বেগম। মেয়েরা স্বামী-সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামে সরকারের দেয়া বাড়িতে বসবাস করছেন। ছেলে শওকত আলী ও তার স্ত্রী-সন্তান থাকেন নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে। সবাই শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল।

বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার

শওকত আলী, তার স্ত্রী রাবেয়া ও মেয়ে বৃষ্টির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা একজন বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে রুহুল আমিনের সম্মানী ভাতা, রেশন সুবিধা নিয়মিত পাচ্ছেন। বসবার করছেন নৌবাহিনীর নির্মাণ করে দেয়া পাকা বাড়িতে।

শওকত আলীর স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জানান, তার শ্বশুর বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিনের সম্মানে গ্রামের বাড়ির সামনে নির্মিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। এছাড়া সোনাইমুড়ী চৌরাস্তায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ কাম ফোয়ারাটি পরিণত হয়েছে আবর্জনার স্তুপে।

বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের সদস্য সচিব সোহেল চৌধুরী জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পরিবারের সদস্যরা সুখে-শান্তিতে আছেন। তবে যত্নের অভাবে মলিন হয়ে গেছে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিনের স্মৃতি। ফোয়ারা-জাদুঘর ও গ্রন্থাগার সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্যরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!