এদিকে নতুন করে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন বিদ্যুতের উৎপাদন কোম্পানি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (এনডব্লিউপিজিসিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিদ্যুৎ খাতে চলমান অস্থিরতা আরো বড় হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি উৎপাদন ও সরবরাহের তারতম্যে গ্রিড বিপর্যয়ের মতো ঘটনা ঘটারও বড় ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করে তোলার অভিযোগে করা মামলায় শনিবারও রিমান্ডে নেয়া হয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুই কর্মকর্তাকে।
.png)
তারা হলেন- লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আলী হাসান মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (আইটি) এসকে শাকিল আহমেদ।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সমিতির ছয় কর্মকর্তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। এখনো গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের ধরপাকড়, মামলা, হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী কর্মীরা।
এ সময় তাদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-
১। পল্লী বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মামলা প্রত্যাহার করে ২৪ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া ও স্ট্যান্ড রিলিজ করা।
২। কর্মকর্তাকে পুনরায় পদায়ন করা, গ্রাহকের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বোর্ড সংস্কার করে একীভূত করে একক একটি প্রতিষ্ঠান গঠন এবং স্থায়ী পদের বিপরীতে চুক্তিভিত্তিকদের নিয়মিত করা।
৩। সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র সমন্বয়কসহ স্বাধীন কমিশন গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করা এবং
৪। বিআরইবির দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ডিজিএম আব্দুল্লাহ আল হাদী, ঢাকা পবিস-১-এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার তামজিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম পবিস-১-এর এজিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন, নরসিংদী পবিস-২-এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম ভুইয়া, গাজীপুর পবিস-১-এর ওয়্যারিং পরিদর্শক শেখ রহমতউল্লাহ নাজির প্রমুখ।
জানা গেছে, রোববার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আশা করা যায়, সেখানে সমঝোতা হবে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর সমাধান করা হবে। কিন্তু এরই মধ্যে কর্মসূচি প্রত্যাহার করার পরও বিআরইবির চাকরিবিধির বাইরে গিয়ে কোনো প্রকার তদন্ত, কারণ দর্শানো বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও হয়রানি করা দুঃখজনক। বর্তমানেও গ্রেফতার আতঙ্কে আমাদের অনেক কর্মকর্তা স্টেশনে অবস্থান করতে পারছে না। এতে করে আবারো গ্রাহক ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের কারো কারো ভাষ্যমতে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ আন্দোলন যৌক্তিক। পাশাপাশি তাদের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা না গেলেও যৌক্তিক পর্যায়ে সমাধান করা উচিত।