ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কৃষকের সার কোথায় যাচ্ছিল? পাচারের পথে এক হাজার কেজি উদ্ধার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪৬, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃষকের সার কোথায় যাচ্ছিল? পাচারের পথে এক হাজার কেজি উদ্ধার
শৈলকুপায় পাচারের সময় এক হাজার কেজি সার উদ্ধার করেছে কৃষি বিভাগ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাচারের সময় এক হাজার কেজি সার উদ্ধার করেছে কৃষি বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চড়িয়ার বিল বাজার থেকে সারবোঝাই একটি ভ্যান আটক করে স্থানীয় কৃষক ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা সারের মধ্যে ১৫ বস্তা ডিএপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি রয়েছে। কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া বাজার থেকে ভ্যানে করে এসব সার শৈলকুপার ফুলহরি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল। চড়িয়ার বিল বাজারে পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা ভ্যানটি থামিয়ে পুলিশ ও কৃষি অফিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে শৈলকুপার মির্জাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব আহমেদ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের সহযোগিতায় সারগুলো উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

সাকিব আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় সার উদ্ধার করেছি। উদ্ধার করা সার স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

তবে সারগুলো কোথা থেকে কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার বরাদ্দে ছিল এবং নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে ফুলহরি গ্রামের একটি বাড়িতে কেন নেওয়া হচ্ছিল এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সার পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম বা সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন, কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার কীভাবে এক জেলা থেকে অন্য এলাকায় পরিবহন করা হচ্ছিল। পরিবহনটি বৈধ হলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও বরাদ্দের তথ্য কী ছিল, আর অনিয়ম হয়ে থাকলে এর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সারের উৎস, বরাদ্দ, পরিবহনের বৈধতা এবং গন্তব্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি উঠেছে।

চড়িয়ার বিল বাজারে এক হাজার কেজি সার উদ্ধারের ঘটনা শুধু অবৈধ পরিবহনের অভিযোগ নয়, কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সারের সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। উদ্ধার করা সার কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হলেও, এর পেছনে কোনো অনিয়ম ছিল কি না তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-M-02
ট্যাগ: ঝিনাইদহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!