বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোলায় তিন দিনের সফরে এসে নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেক মানুষের দাবি। সেতুর জন্য আমরা সবাই আন্দোলন করেছি। সংসদেও আমরা প্রত্যেকে এ দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি দেখছে।’
.png)
তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তাঁরা বলতে চাইছেন, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা এমন নয়। ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি আনবেন না।’
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘সরকার তার অবস্থান থেকে হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার বিষয়টিও দেখছে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগে। ভোলার জন্য বিকল্প কিছু চিন্তা করে যেটি ভালো হবে, আমরা সবাই সেটিই চাই। প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা চিন্তা করবেন কোনটি ভালো হবে। আমরা আমাদের দাবির কথা বলে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি কোনো কিছু বিবেচনা করে, “এটা হলে কেমন হয়”—সেটিও দেখা যেতে পারে। তবে ওই সড়ক নির্মাণ করতেও ৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এক ভোলার জন্যই ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হচ্ছে। এই ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।’
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করব, ইনশাআল্লাহ।’
গণসংবর্ধনায় তিনি বলেন, ‘বিগত ১৮ বছরে আমি কী রাজনীতি করেছি, তা আপনারা সবাই দেখেছেন। আমি চাইলে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতাম। কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দিইনি। আমার জীবনের প্রতিটি বিপদে ভোলার মানুষ আমার পাশে ছিল।’
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন, যাতে আমি কাজ করতে পারি। সবাইকে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে আপনারা ছয় মাস দেখেছেন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে আমি প্রশ্রয় দিইনি, দেবও না। আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের কেউ নয়। আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না।’
টিআর ও কাবিখা প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেবেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলার খেয়াঘাট ও নতুন বাজার চত্বরে জড়ো হন।
এর আগে ঢাকার থেকে সড়কপথে বরিশাল হয়ে লাহারহাটে পৌঁছান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। সেখান থেকে স্পিডবোটে ভোলা খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি ও বিজেপির নেতারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খেয়াঘাট থেকে ভোলা শহরে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীরা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে উকিলপাড়ায় তাঁর নিজ বাসায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।