কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষক নিজ ঘরে গিয়ে আবেগে ভাসলেন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার রাতে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ঠিকমতো রিডিং পড়তে না পারায় তাদের উৎসাহিত করতে গিয়ে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ তোলেন শিক্ষক লালন। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় বাংলা চর্চার ঘাটতি থাকতে পারে—এমন মন্তব্য তিনি করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
.png)

ওই বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ শিক্ষক লালনকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তবে শিক্ষক লালন অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় থানায় তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা হয়নি বলেও জানান লালন। তিনি বলেন, দৌলতপুর থানার ওসি তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বসিয়েছেন এবং পুলিশ মানবিক আচরণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর বুধবার রাতে দৌলতপুর থানার পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ শিক্ষক লালনকে তাঁর প্রাগপুর পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে পৌঁছে দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাড়ি ফিরে শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর পরিবার কৃতজ্ঞ।