ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ২১ অক্টোবর ২০২৬
মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব কমাতে সংস্কার জরুরি: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ডা. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

দেশে মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ডা. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, দুর্বল অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও ঋণের চাপ মোকাবিলায় ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দারিদ্র্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সংকট ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেশি সংকটে পড়েছে। বিভিন্ন হিসাবের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেকে সঞ্চয় ভেঙেছেন, এমনকি ঋণও করেছেন।

ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের দুর্বলতা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বড় বাধা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এর প্রভাব পড়েছে যুবসমাজের ওপর। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থনীতি নিয়ে ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দারিদ্র্য মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনেও বিপুলসংখ্যক মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড চালুর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এসব কর্মসূচি দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোর পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ডা. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিও চাপে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান ও ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ইতিমধ্যে বিনিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জ্বালানি খাতের চাপ কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের সময়ের ঋণের বোঝা ও অর্থ পাচারের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্নভাবে প্রায় ৪০ বিলিয়ন টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে নতুন ও উদ্ভাবনী অর্থায়নব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার আরও কমালে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্মসংস্থানকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে পারলে বেকারত্ব কমবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ জন্য শিল্পকারখানায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মতবিনিময় সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/রাজবাড়ী/এমকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!