ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

এবারের আইপিএলে দাপট দেখাচ্ছেন ভারতীয়রাই

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ১৮ এপ্রিল ২০২২
এবারের আইপিএলে দাপট দেখাচ্ছেন ভারতীয়রাই
ফাইল ছবি

একটা সময় ছিল যখন আইপিএলে বিদেশিদের কেনা নিয়ে মুখিয়ে থাকত দলগুলি। পছন্দের বিদেশিরা দলে এসে যাওয়ার পর আরো সমস্যা। কাকে বাদে কাকে খেলানো হবে সেটা নিয়ে মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় হত কোচ, অধিনায়কের।

দলের কথা ভেবে কখনো কখনো অপ্রিয় সিদ্ধান্তও নিতে হত। কিন্তু ১৪টি আইপিএল কেটে যাওয়ার পরে অবশেষে এই ধারণায় বদল এসেছে। এখন আর শুধু মাত্র বিদেশিদের উপরে দলগুলি নির্ভরশীল নয়। ক্রমশ গুরুত্ব বাড়ছে দেশীয় ক্রিকেটারদের।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল একটি ম্যাচে সর্বাধিক চার জন বিদেশি খেলাতে পারে। এখন পর্যন্ত এবারের আইপিএলে হয়েছে ২৯টি ম্যাচ। তার মধ্যে অন্তত ১১টি ম্যাচে কোনো একটি দল চার জনের কম বিদেশি নিয়ে খেলেছে। দলে চার বিদেশি না খেলালেও চলে, এই সিদ্ধান্ত নিতে এখন আর দু’বারও ভাবে না দলগুলি।

Advertisement

হয়তো আসরের পরের দিকে এই প্রবণতা কমবে। কারণ দলগুলি তত দিনে বুঝে যাবে কোন দল তাদের পক্ষে সেরা। এখন পর্যন্ত এই আইপিএলে শুধু গুজরাট টাইটান্স প্রতিটি ম্যাচে চার বিদেশি খেলিয়েছে। কিন্তু মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বারবার তা বদলেছে।

প্রথম ম্যাচে চার বিদেশি খেলিয়েছে মুম্বাই। টানা তিন হারের পর তা নেমে আসে দুই বিদেশিতে। পঞ্চম ম্যাচে আবার তিন বিদেশি খেলায়। ফলে সেরা প্রথম একাদশ এখনও খুঁজে পায়নি তারা। চেন্নাই সুপার কিংসে আবার সুযোগ পাচ্ছেন না ডেভন কনওয়ের মতো বিধ্বংসী ক্রিকেটার।

কলকাতা প্রথম ম্যাচে তিন বিদেশি খেলিয়েছে। তবে তখন প্যাট কামিন্স ছিলেন না। ডেভিড ওয়ার্নার, আনরিখ নোখিয়া বা মিচেল মার্শকে না পাওয়ায় দিল্লি প্রথম ম্যাচে দুই বিদেশি খেলায়। কাগিসো রাবাদা না থাকায় একটি ম্যাচে তিন বিদেশি নিয়ে নেমেছিল পাঞ্জাব।

রাজস্থান মোটামুটি একই বিদেশি খেলিয়ে চলেছে। তবে নাথান এলিস, মিচেল স্যান্টনার, ডমিনিক ড্রেকস, নুর আহমেদ, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, কাইল মেয়ার্স, রাইলি মেরিডিথের মতো অসংখ্য বিদেশিকে দলগুলি ধর্তব্যের মধ্যেই আনছে না। মনে করা হচ্ছে, শুধু মাত্র দল ভরানোর জন্যই যেন তাদের নেয়া হয়েছে।

কেন এই জিনিস হচ্ছে? বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, মূলত ফাস্ট বোলিং এবং বিগ শট খেলার ক্ষমতার জন্য এতদিন বিদেশিদের চাহিদা ছিল। কিন্তু এখনকার সময়ে আয়ুষ বাদোনি, তিলক ভার্মা, অভিনব মনোহর বা রাহুল তেওয়াটিয়ারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তারা কারো থেকে কম যান না। একার হাতে তারা প্রত্যেকে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন।

ভারতের সাবেক কোচ গ্যারি কার্স্টেন এক ওয়েবসাইটে বলেছেন, আইপিএলের পরিবেশে ভারতীয় ক্রিকেটাররা আগের থেকে নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে করছে। এই প্রতিযোগিতাটা আসলে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যেই। বিভিন্ন দলে এখন তরুণ ক্রিকেটাররা গিয়ে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে। চাপে থাকলেও ওরা পিছপা হচ্ছে না।

অনেক দল আবার জানিয়েছে, দলে দরকারি বিদেশি না থাকার কারণেই খেলানো হচ্ছে না। নিলামে যারা থাকেন, তারা মূলত পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে বিদেশি নির্বাচনের চেষ্টা করেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা কাজে লাগে না। এখানেও তাই হচ্ছে।

এছাড়া আরো একটি কারণ রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রথম দিকে কোনো দেশের ক্রিকেটারকে হয়তো পাওয়া যায়নি। তার জায়গায় কোনো ভারতীয় ভাল খেলে দিলেন। এবার স্রেফ নামের জেরে সেই বিদেশি ক্রিকেটার আর দলে ঢুকতে পারছেন না। তাকে প্রতিভার প্রমাণ দিতে হচ্ছে।

সবমিলিয়ে বলা যায় এবারের আইপিএল যেন ভারতের ক্রিকেটারদের নতুন করে চেনাচ্ছে। যা পারতপক্ষে তাদেরই উপকারে আসছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!