বিপিএলে সিলেটের ইতিহাস মোটেই সুখকর নয়। আগের সবগুলো আসরেই ভরাডুবি হয়েছিল সিলেটের। তবে এবার একটা ঝুঁকি নিলো নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাদের এই ঝুঁকির নেপথ্যে ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
মাশরাফীর পরিকল্পনা মতো বিস্ময়কর এক কাজ করে বসে সিলেট। তারা দেশীয়দের নিয়ে সাজায় তাদের কোচিং প্যানেল ও ম্যানেজমেন্ট। এই প্যানেলে আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের কয়েকজন কিংবদন্তিসম ক্রিকেটার।
.png)
রাজীন সালেহকে দিয়ে শুরু। সিলেটের প্রধান কোচের পদ অলঙ্কৃত করেছেন তিনি। তার সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে আছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সুইং বোলিংয়ের নেতা সাবেক পেসার সৈয়দ রাসেল। খেলোয়াড়ী জীবনে যিনি ছিলেন মাশরাফীর বোলিং জুটি।
ব্যাটিং কোচ হিসেবে আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের ফোয়ারা ছুটানো তুষার ইমরান। পেস বোলিং কোচ হিসেব আছেন আরেক সাবেক পেসার নাজমুল হোসেন। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডলার মাহমুদ। টিম ম্যানেজার হিসেবে আছেন নাফিস ইকবাল।
দেশের ইতিহাসের নামকরা এইসব খেলোয়াড়দের নিয়ে কোচিং প্যানেল সাজানোর সাহসটা দেখিয়েছেন মাশরাফী। ঝুঁকি নেবার একটা ঝোঁক আছে তার। আরো আছে বিশ্বাস ও আস্থা। এই বিশ্বাসের বদৌলতেই সাবেক সতীর্থদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন ম্যাশ।
তারপরের গল্পটা আমরা সকলেই জানি। প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই দাপুটে জয়। এখন পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চায়ের নগরীর দলটি। মাঠের বাইরে সাবেক সতীর্থদের ছেড়ে দিয়ে সিলেটি পানসীর হালটা ধরে বসে রইলেন কাপ্তান। মনের কোণে প্রশ্ন এসে যায়, মাশরাফী কি তবে জাদুকর?
এই প্রশ্নের উত্তর রহস্যময়। মাশরাফী চাইছেন বলেই তো বঙ্গদেশীয় মন্ত্রণায় উজ্জিবীত হলো দল। মাশরাফী চাইছেন বলেই তো হাত খুলে খেলার সাহসটুকু পেলেন তৌহিদ হৃদয়। ঘন কুয়াশাই মাশরাফীই তো বুড়িগঙ্গা থেকে সুরমার পানে ছুটিয়ে দিয়েছেন সফলতার পাল।
মাশরাফী জাদুকর নাকি স্রেফ মিথ? এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় মাশরাফীই ভালো জানেন। আর জানেন বলেই দীর্ঘ সময় পর মাঠের বাইরে থেকেও কলারটা উঁচু করে বল হাতে দৌড়ে চলতে পারেন। উইকেটশিকারির তালিকায় শীর্ষে থাকতে পারেন। মাশরাফি মানেই তো রহস্যের এক অদ্ভূত বেড়াজাল।
যে বেড়াজাল ছিন্ন করা এখনো অসাধ্য, ঠিক মাশরাফীর বিশ্বাস, ভরসা আর আস্থার মতো...