২৮১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শেষদিন ১৭৪ রান প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। উসমান খাজা সর্বোচ্চ ৬৫ রান করে জয়ের ভীত গড়ে দেন। বাকি কাজ সারেন প্যাট কামিন্স। নাথান লায়নের সঙ্গে ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নদের জয় উপহার দেন তিনি।
পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা এজবাস্টনে যেন ফিরে এলো ১৮ বছর আগের স্মৃতি। সেবার দুই রানে হারের বদলা এবার দুই উইকেটে জিতে নিলো অজিরা। সেবার লক্ষ্য ছিল ২৮২, এবার ২৮১! আর ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ও বেন স্টোকসের রসায়নে ১৪ টেস্টে প্রথমবার প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড।
.png)
কে ভেবেছিল ঠিক এভাবে রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ হবে অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট? এজন্যই তো ক্রিকেটকে বলে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা! যেখানে দলকে জিতিয়ে ইতিহাসের পাতায় প্যাট কামিন্স। ৯ নম্বরে তিনি যখন ব্যাট করতে ক্রিজে আসেন তখনও জয়ের জন্য ৭২ রান প্রয়োজন অস্ট্রেলিয়ার।
ভয় আরো বাড়ে অ্যালেক্স ক্যারির বিদায়ে। তখনো লক্ষ্য থেকে ৫৪ রান দূরে টেষ্ট চাম্পিয়নরা। এরপর নাথান লায়নকে নিয়ে ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাকি কাজটা সারেন কামিন্স। বীরোচিত ৪৪ রানের ইনিংসে যেখানে বড় ভূমিকা অজি অধিনায়কের।
কথায় আছে ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। মাত্র দুইরানে নাথান লায়নকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন বেন স্টোকস। স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে ক্যাচ তুলেছিলেন অজি ব্যাটার। তবে আক্ষেপ সঙ্গী ইংলিশ অধিনায়কের। যদিও এর আগে জয়ের ভীত গড়ে দেন ম্যাচ সেরা উসমান খাজা।
বৃষ্টি বিঘ্নিত পঞ্চম দিন খেলা শুরু হয়েছে সোয়া ৩ ঘণ্টা পর। প্রথম সেশনে মাঠে গড়ায়নি কোনো বল। ৬৭ ওভারে ১৭৪ রান প্রয়োজন অস্ট্রেলিয়ার। আর ইংল্যান্ডের ৭ উইকেট। সঙ্গে শুরুতেই নাইট ওয়াচম্যান বোল্যান্ডের বিদায়ে আরও ঝুকিতে অস্ট্রেলিয়া।
সেখান থেকে একা লড়াই করেন ম্যাচসেরা উসমান খাজা। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১৯৭ বলে ৬৫ রানের ইনিংস। ট্রেভিস হেডকে মঈন আলী আর ক্যামেরুন গ্রিন দ্রুত বিদায় করে ইংল্যান্ডকে জয়ের আশা দেখিয়েছিলেন ওলি রবিনসন। তবে শেষ পর্যন্ত আর জেতেনি তারা।
এখনো সিরিজে ফেরার সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে আগামী ২৮ জুন।