বর্ষার মেঘ সরে গিয়ে আকাশে জমেছে নীলের বিস্তার। পাহাড় ও টিলাঘেরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে এবার কৃষ্ণচূড়ার আগুন রাঙা রূপ, সোনালুর হলুদ আর জারুলের বেগুনি রঙ পেরিয়ে ডানা মেলেছে শরতের শুভ্র কাশফুল। কুবির লালমাটির ক্যানভাসে এই সাদা কাশফুল যেন প্রকৃতির এক নতুন রূপ।
ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পেছনের অংশ, শহিদ মিনারের চারপাশ, কেন্দ্রীয় মসজিদের সংলগ্ন টিলা, বাস্কেটবল কোর্ট, বিজয়-২৪ হলের আশপাশ এবং গেস্ট হাউজের পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই কাশফুলের মায়াবী সৌন্দর্য। ক্লাসের চাপ, পরীক্ষা ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার মাঝে বিকেলের নরম আলোয় কাশবনের এই পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য এনে দিচ্ছে মানসিক প্রশান্তি।
.png)
তবে অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে এবার কাশফুলের পরিসর কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। কুবির খেলার মাঠের পাশে বাস্কেটবল কোর্ট ও অন্যান্য ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের ফলে মাঠের ডান পাশের পাহাড়ের বড় অংশে কাশফুল ফুটেনি। এতে বিস্তৃতি কমলেও যেখানে ফুল ফুটেছে, সেখানেই ভিড় জমাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা। ছবি ও ভিডিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্মৃতি ধরে রাখছেন অনেকে।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার দিয়া জানান, 'ক্লাসের ব্যস্ততার মাঝে কাশবনে কিছুটা সময় কাটালে শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।'
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সুমাইয়া রিক্তির মতে, 'এই যান্ত্রিক শহরে কাশবন মানসিক প্রশান্তির বড় উৎস, যা সহজ-সরল ও স্নিগ্ধ থাকার শিক্ষা দেয়।'
অন্যদিকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আরিয়ান শাহীনের কাছে এটি কেবল প্রকৃতি নয়, বরং অনুভূতি ও স্মৃতি বিনিময়ের এক অনন্য মাধ্যম।
সাহিত্য ও বাঙালির আবহমান শৈশবের সঙ্গেও কাশফুলের সম্পর্ক গভীর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালীর অপু-দুর্গার কাশবনের পথ ধরে ট্রেন দেখতে ছোটাই হোক কিংবা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও জীবনানন্দের সাহিত্যচর্চায় শরতের আবেদন সবকিছুই ফুটে ওঠে কুবির এই কাশবনে।
প্রতিটি বিকেলেই খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের দূরন্ত খেলাধুলার পাশে নীরবে দোলে এই সাদা কাশফুল। শরৎ একসময় বিদায় নেবে, ফুলও ঝরে যাবে তবে কাশবনের এই দোলা কুবির সবুজ ক্যাম্পাসে তারুণ্য ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে স্মৃতির নতুন গল্প লিখে চলেছে।