ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সিজারের চার দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, লাইসেন্স না থাকায় ক্লিনিক সিলগালা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০৯, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিজারের চার দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, লাইসেন্স না থাকায় ক্লিনিক সিলগালা
নিউ সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সিজারের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় নিউ সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বৈধ লাইসেন্স না থাকায় মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জীবননগর শহরে অবস্থিত নিউ সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ওই ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে ক্লিনিকটির লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যসেবার মান যাচাই করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বৈধ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এ কারণে বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিক সুজা উদ্দিনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ক্লিনিকে থাকা সবাইকে বের করে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, ‘অপারেশনের চার দিন পর এক প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসহ স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়। লাইসেন্স না থাকায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে এবং ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।’

অভিযানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখসহ পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিউ সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের চার দিন পর ওই প্রসূতির মৃত্যু হলেও এ ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও পরিচালনা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!