ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন

‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৫, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ছয়জন। আগুনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্বজনের খোঁজে এক নারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তিনি বারবার আকুতি জানিয়ে বলছিলেন, ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’

জানা গেছে, ওই নারী দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি এক সাংবাদিকের বোন বলে জানা গেছে। তবে সাইফের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী এবং সাইফ বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্বজনের খোঁজে ওই নারী বারবার সাইফের নাম ধরে ডাকছেন। তার কান্না ও আকুতি সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে ১৭ জন পর্যটক ছিলেন। প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে অনেকে নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে সময় লাগবে।

সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আগুনে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এবং রিসোর্টটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!