ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

পুরান ঢাকায় শীতের পিঠা বিক্রির ধুম

মিনহাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: ২০:৫৫, ১০ জানুয়ারি ২০২৩
পুরান ঢাকায় শীতের পিঠা বিক্রির ধুম
পুরান ঢাকায় ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর পুরান ঢাকায় শীতের পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। ব্যস্ত এ শহরে বাসায় পিঠা তৈরি করতে অনেকের সময় নেই। তাই শীতের বিকেল কিংবা সন্ধ্যার হিম হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গরম পিঠা খেতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানগুলোতে।

শীত আসতেই ঢাকার মোড়ে মোড়ে বসেছে পিঠার ভাসমান দোকান। বিশেষত ঐতিহ্যবাহী জনপদ পুরান ঢাকার মোড়ে মোড়ে চলছে পিঠা-পুলি বিক্রির ধুম। গ্রাম বাংলায় নবান্নে যেমন পিঠা-পুলির উৎসব হয়, তেমনই শীতজুড়ে পুরান ঢাকা হয়ে ওঠে পিঠা উৎসবের নগরী।

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, রায়সাহেব বাজার, শাখারি বাজার, সদরঘাট, মিডফোর্ড, ইসলামপুর ইত্যাদি জায়গার মোড়ে মোড়ে সন্ধ্যা নামতেই বসে পিঠাপুলির ভাসমান দোকান। কোথাও বিক্রি হয় চিতই পিঠা, কোথাওবা ভাপাপিঠা, কোথাও আবার পাটিসাপ্টা। ভাপাপিঠা সমৃদ্ধ করা হয় নানা রঙে। চিতই পিঠার সঙ্গে থাকে সরিষা, ধনিয়া, শুঁটকিসহ নানা ভর্তা। এসব ভর্তা চিতইয়ের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে বহুগুণে। চিতই পিঠা ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হলেও ভাপাপিঠা মানভেদে বিক্রি হয় ১০ থেকে ২০ টাকায়। অনেক জায়গাতে গরম ভাপা পিঠা বা চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে মাটির চুলা থেকে। আবার অন্যান্য চুলাতেও তৈরি হচ্ছে অনেক জায়গা।

Advertisement

পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানের সামনে পিঠা খাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ইমন নামে এক তরুণ বলেন, শীতে চুলার পাশে বসে পিঠা খাওয়ার যে ছবি আমাদের চোখে ভেসে ওঠে, নগর জীবনে তার দেখা মিলবে কই। এরা আছে বলে একটু পিঠা খাওয়ার সুযোগ হয়।

পিঠা খেতে আসা মধ্যবয়সী নাইম ইসলাম বলেন, ঢাকায় শীতের পিঠার চাহিদাও লক্ষণীয় এবং বিক্রি হয় অনেক। পিঠার এ রকম প্রচার ও প্রসারে শিশু, কিশোর ও তরুণরা ফাস্টফুড সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসছে। এটা আমাদের জন্য ভালো।

রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পিঠা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমি এই পিঠার প্রতি অনেকের বেশ আগ্রহ আছে। তুলনামূলক সন্ধ্যায় পিঠার চাহিদা বেশি থাকে। যথেষ্ট পরিমাণ পিঠা বিক্রি হয় এ সময়।

ডেইলি বাংলাদেশকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে পিঠা বিক্রেতা হাসান আহমেদ জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বিক্রি করি। দিনে ২ থেকে ৩০০ পিস বিক্রি হয়। সবমিলিয়ে হাজার খানেক লাভ থাকে। কখনওবা বেশিও হয়। আবার কোনোদিন কম।

পিঠার ব্যবসা করে জীবন-জীবিকা কেমন চলে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাসাভাড়া, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সংসারের খরচ, সবকিছু এর উপরই চলে। সবমিলিয়ে ভালোই আছি।

গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠের সামনে পিঠা বিক্রি করেন হাসনা বেগম। তিনি বিক্রি করেন ভাপা ও চিতই পিঠা। তিনি জানালেন, এই দুটি পিঠাই শীতে বেশি বিক্রি হয়। ভাপা পিঠা বিক্রি করেন ১০ টাকা আর চিতই পিঠা বিক্রি করেন ৫ টাকা করে। পিঠা বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি তৃপ্তির হাসি নিয়ে জানালেন, বিক্রি বেশ ভালো। সকালের চেয়ে সন্ধ্যায় বেচাকেনা বেশি হয় বলে সন্ধ্যায় বেশি সময় দেই কাজে।

রায়সাহেব বাজারের পিঠা বিক্রেতা ইমরান হোসেন জানালেন, তিনি শীতের সময় শুধু পিঠা বিক্রি করেন। শীত চলে গেলে অন্য কাজ করেন। কারণ হিসেবে জানালেন, শীতের সময় পিঠা বিক্রিতে বেশি লাভ হয়। দৈনিক পিঠা বিক্রি করে কেমন লাভ হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রায় ৫০০-৭০০ টাকা লাভ হয়। তবে বেচাকেনা আস্তে আস্তে বাড়ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!