ঢাকায় বাহারি স্বাদের যত হালিম
রোজার মাসে হালিম আমাদের প্রিয় খাবারগুলোর একটা। অনেকেরতো হালিম ছাড়া ইফতারই জমে হয় না। হালিম মূলত একটা আরব ডিশ, যা হায়দ্রাবাদের নিজাম ভারতবর্ষে প্রচলন করেন। এছাড়া মুঘলরাও হালিম খাওয়া এই এলাকা শুরু করে। মজার ব্যাপার হলো হায়দ্রাবাদের হালিম ২০১০ সালে জি আই সার্টিফিকেশন পায়।
বাংলাদেশে হালিমের প্রচলন কবে থেকে বলা মুশকিল। ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে হালিম পাওয়া যায় তবে জাতের হালিম সব জায়গায় বানাইতে পারে না।
মামা হালিম: ঢাকার প্রথম ব্র্যান্ডেড হালিম বলা যায় মামা হালিম। ৩৫ বছর ধরে কলাবাগান মাঠের সামনে বিক্রি করছে! সারা বছরই বিক্রি হয়। একটু ঘন হয় আর কিছু সিক্রেট রেসিপির মসলা আর একটা সস ব্যবহার হয় যেটা এই হালিমকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। মামার ফ্যানরা তাই বলে! এর মালিকের নাম দিন মুহাম্মদ সবাই মামা বলে ডাকে। একটাই ব্রাঞ্চ।
খাজা হালিম: নটরডেম কলেজের উলটা দিকে আরামবাগে এই খাজা হালিম। এদের স্পেশাল্টি হচ্ছে এরা শুধুমাত্র নিহারি হালিম বানায়, যা অন্যদের চেয়ে আলাদা।
ডিসেন্টের হালিম: পুরান ঢাকার চকবাজারসহ আর ও অনেক ব্রাঞ্চে এরা বিক্রি করে। এদের ইউএসপি হচ্ছে এরা টুকরা মাংসের বদলে ঝুরা মাংস দেয়। এই আইডিয়া ডিসেন্ট পেয়েছিল লাহরি হালিম থেকে। শুধু রমজান মাসেই এরা সেল করে! রীতিমত লাইন ধরে এই হালিম কিনতে হয়।
স্টার হালিম: স্টারের সব খাবারই একটা মিনিমান স্টান্ডার্ড মেইনটেইন করে। এদের হালিম ও ভালই হয়। দামও রিজনেবল।
এছাড়াও মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের ‘মনা মামার হালিমের’ কথা বলা যায়। হালিমের সঙ্গে কয়েল পাখির ডিম আর আচার এটাকে একটু ডিফ্রেন্ট করেছে।
এছাড়াও পুরান ঢাকার রয়েলের হালিম, মতিঝিলের হিরাঝিল, সালামস কিচেনের, ধানমণ্ডির পিন্টু বাবুর্চি, হান্ডির হালিমের শহর জুড়ে সুনাম আছে। ইদানিং সুন্নাহ বলে একজন ফুড ব্লগার হালিম বানাচ্ছেন শ্যামলি এলাকায়, দিনে ১৫০ কেজি হালিম বিক্রি হয়ে যায়। প্রচুর মাংস থাকে; তবে দাম একটু বেশি।