ঢাকা,  রোববার   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ পেশা ও জীবন ]

সাফল্যের জন্য আত্ম-মূল্যায়ন

এস এম মুকুল
প্রকাশিত: ১৩:১২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাফল্যের জন্য আত্ম-মূল্যায়ন
কাজের মাঝে আনন্দ খুঁজে পেতে চেষ্টা করুন। নিজের কাজের পর্যালোচনা করুন। কাজটি কেমন হলো, কতোটা হলো সহকর্মীদের পরামর্শ নিন।

নিজ সম্পর্কে ধারণা সঠিক থাকলে নির্ভুলভাবে নিতে পারবেন জীবনের যে কোন পরিকল্পনা। ভবিষ্যৎ সাফলতার জন্য নিজের সামর্থ্য ও যোগ্যতার নিরিখে পরিকল্পিত উপায়ে অগ্রসর হতে হবে।

নিজের সাথে বোঝাপড়া
*    নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন। 
*    জীবনের চুড়ান্ত পর্বে আপনি কি হতে চান। 
*    ৮/১০ বছর পরে আপনি নিজেকে কেমন অবস্থায়, কোন পদে, কোন পরিচয়ে সমাজে অধিষ্ঠিত হতে চান।
*    কিভাবে আপনি ওই অবস্থায় উপনীত হতে পারেন। 
*    আপনি কি স্বতন্ত্র স্বাধীন কোন পেশায় নিযুক্ত হতে চান বা বিশেষ কোন ব্যবসা শুরু করতে চান। 
*    অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে কি আপনার আর কোনো ডিগ্রি বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার।
*    লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কি আপনার জীবনযাত্রা, শিক্ষা ব্যবস্থা বা শিক্ষা পদ্ধতি থেকে সরে আসতে হবে। 
*    যদি তাই হয় তাহরে তা কতটা সম্ভব। তাতে আপনার ক্যারিয়ার কতটা লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। হিসেবগুলো নিজের সাথে যাচাই করে নিন।

Advertisement

ঠিক করুন আপনার কাজের ধরণ
-    আপনি কেমন কাজ করতে চান। বসে কাজ করতে চান, না ঘুরে কাজ করতে চান।
-    কতটা ঘুরতে চান শহরের মধ্যেই, না গ্রামেও যেতে চান। 
-    আপনি কি অন্যের আনুগত্য পছন্দ করেন। নাকি দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পরে পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে চান। 
-    আপনি কি প্রথা নির্দিষ্ট কাজ করতে ভালোবাসেন। 
-    আপনি ক প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাজ করতে চান। 
-    আপনি একা না দলগত কাজ করতে পছন্দ করেন। 
-    অন্য কেউ বা উর্ধ্বতন কেউ আপনার কর্ম প্রণালী নির্দিষ্ট করে দিলে কি আপনি বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। 
-    আপনি কি শুধুই টাকার জন্য কাজ করতে চান নাকি কাজের মাঝে জীবনের আনন্দ খুঁজতে চান।  
-    কোন বিশেষ কাজের জন্য আপনি কতদূর প্রস্তুত থাকেন।
-    পূর্বতন চাকরি ক্ষেত্রে আপনি কতটা নির্ভরশীল কর্মী ছিলেন। 
-    সেই নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করার উপায় কি। 
-    স্কুল-কলেজে পড়ার সময় লেখাপড়া ছাড়া আর কি কি যোগ্যতা ছিল আপনার। 
-    অন্যান্য যোগ্যতার প্রেক্ষিতে কি কি প্রশংসাপত্র আপনার হাতে রয়েছে।
-    সংগঠক হিসেবে বা কোনো বিশেষ প্রজেক্টে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আপনার কি কি অভিজ্ঞতা আছে। 

কেমন হবে কাজের জগত
*    আপনার যোগ্যতার কি কি কাজের সুযোগ রয়েছে। কি ধরণের সংস্থায় আপনার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিদা রয়েছে। তালিকা করুন।
*    সম্ভাব্য বিভিন্ন সংস্থার সমপদমর্যাদায় বেতন ও কর্মগত সুযোগ-সুবধা কি  কেমন জেনে নিন।
*    আপনি কি পরিমাণ বেতন ও কত বড় সংস্থার জন্য নিজেকে যথেষ্ট প্রস্তুুত করতে পারেন ঠিক করুন। 
*    এভাবে নিজের সম্বন্ধে যথেষ্ট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করুন। একবার নয় বারবার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে এই আত্মমূল্যায়ন ও আত্মসমালোচনা বিষয়ে। 

Common Career Myths and the Role of Career Coaching | GCC
সফলতার জন্য আরো প্রয়োজন

  • আপনার সুন্দর ও সফল জীবন নির্ভর করে আপনার উদ্দেশ্যের ওপর। মনে রাখবেন, উদ্দেশ্যহীনভাবে কাজ করলে কোন ফল লাভ হবে না। 

*    পরামর্শের মাধ্যমে কোন কিছু না জানলে জেনে নিন।
*    কখনই না জেনে জানার ভান করবেন না। অকারণ ভনিতা সাফল্য অর্জনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। 
*    আস্থা নিয়ে কাজ করুন। কাজে আস্থা থাকলে সফলতা আসবে। 
*    কাজে ধৈর্য হারাবেন না। ধৈর্য হারালে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
*    সাফল্য হঠাৎ করে আসে না। যদি কখনো আসে, তবে তা স্থায়ী হয়না।
*    কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করুন ধৈর্য সহকারে। 
*    ভয়কে জয় করুন।  শ্রম সাধনার মাধ্যমে আপ্রাণ চেষ্টা করুন। 
*    কাজের মাঝে আনন্দ খুঁজে পেতে চেষ্টা করুন।
*    নিজের কাজের পর্যালোচনা করুন। কাজটি কেমন হলো, কতোটা হলো সহকর্মীদের পরামর্শ নিন।

সূত্র : এস এম মুকুল-এর সফল হওয়ার সহজ উপায় গ্রন্থ থেকে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!