এ অঞ্চলে উৎপাদিত শুঁটকির চাহিদা সারাদেশে ব্যাপক। সম্প্রতি দেশের চাহিদা মিটিয়ে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধ্যুষিত অঞ্চলের শুঁটকি রফতানি হচ্ছে বিদেশে। বাণিজ্যিকভাবে ভারতে রফতানির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশেও দিনদিন কদর বাড়ছে মিঠাপানির এসব শুঁটকির।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় সরেজমিনে শুঁটকির চাতালে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের দুইপাশে গড়ে উঠেছে এসব চাতাল। বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ শুকিয়ে বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্ষা মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের সর্বাধিক দেশীয় মাছ উৎপাদন হয় এ অঞ্চলে। বিলের পানি কমতে শুরু করলে মাছ ধরার ধুম পড়ে যায়। আর তখনই উৎপাদন শুরু হয় শুঁটকির।
.png)
শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান মহিষলুটি মাছের আড়তে কাঁচা পুটি মাছ ৮০-৯০ টাকা, চাঁদা ৪০-৬০ টাকা, খলিশা ৭০-৮০ টাকা ও বেলে ১০০-১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। ৪০ কেজি কাঁচা মাছ শুকালে ১৫ কেজি শুটকি হয়। উৎপাদিত শুটকি নীলফামারী, রংপুর ও সৈয়দপুরে বর্তমানে ৮০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আবার প্রকারভেদে প্রতি মণ ১৫০০০-২০০০০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হয়।
উল্লাপাড়ার বড়পাঙ্গাসী এলাকার জেলে আবুল কালাম ও নিমাই জানান, এ অঞ্চলে ৫০টির মতো চাতালে শতাধিক নারী শ্রমিক ও অর্ধশতাধিক পুরুষ শ্রমিক সারা বছর শুঁটকি উৎপাদনে কাজ করেন।
সৈয়দপুরের ইসলামপুর এলাকার আড়তদার শাকিল বলেন, আমরা সারাদেশে শুঁটকির সরবরাহ করি। এছাড়া ভারতেও রফতানি হয়। বাজারে যখন যে দাম থাকে, আমরা উৎপাদনকারীদের সেই দামই দেই।
সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, চলনবিলের মাছের শুঁটকি সুস্বাদু হয়। এ অঞ্চলের শুঁটকির সুনাম ও চাহিদা দুটোই রয়েছে দেশ-বিদেশে। আমরা শুঁটকির মান বৃদ্ধির জন্য চাতাল মালিকদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছি। প্রক্রিয়াটি শুরু হলে এ অঞ্চলের শুঁটকি ব্যবসা আরো সম্প্রসারিত হবে।