মঙ্গল মাঝিরঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়। বর্তমানে নৌপথটিতে দিনে তিনটি এ টাইপের ফেরি, দুটি ডাম্প ফেরি ও একটি ছোট ফেরি চলাচল করছে। আর রাতে শুধু তিনটি এ টাইপের ফেরি চলাচল করছে। তখন ডাম্প ফেরি দুটি ও ছোট ফেরি বন্ধ রাখা হয়। দিনে রাতে মিলে নৌপথটিতে ৬০০ থেকে সাড়ে ৭০০ যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
সামনে ঈদ হওয়ার কারণে ঘাটটিতে পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পারাপারের জন্য প্রতিদিন অন্তত এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ গাড়ি আসছে। যার কারণে যানবাহনের চালকদের ফেরির সিরিয়াল পেতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
.png)
মঙ্গল মাঝিরঘাটে দেখা যায়, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি জট সৃষ্টি হয়েছে। ঘাট থেকে পদ্মাসেতুর পুনর্বাসন সাইট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি আর গনির মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ির জট লেগে আছে।
বিআইডব্লিটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথ দিয়ে শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন ফেরি পারাপার হয়। ঐ নৌপথে ফেরি চলতে গিয়ে ২০২১ সালের ২০ জুলাই পদ্মাসেতুর একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে রো রো ফেরির। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরিগুলো পদ্মাসেতুর সঙ্গে কয়েক দফা ধাক্কা লাগে। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ আগস্ট থেকে ঐ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। এরপর নদীর স্রোত কমে গেলে ঐ নৌপথে দিনের বেলা স্বল্প পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়। জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় ২৫ আগস্ট নতুন করে একটি ফেরি ঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিটিএ। নাব্য সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ঐ পথে ফেরি চালু করা যায়নি।
গাড়ি চালক সুমন আহম্মেদ গিয়াস বলেন, বরিশাল থেকে দুপুরে রওনা হয়েছি। মাছ নিয়ে ঢাকায় সন্ধ্যার বাজার ধরার কথা ছিল। কিন্তু রাত দুইটায়ও ফেরি পাব না। দ্রুত পৌঁছতে না পারলে মাছে পচন ধরবে।
ব্যক্তিগত গাড়ির চালক শামীম খান বলেন, বিকেল ৫টার সময় ঘাটে এসে ৭ ঘণ্টা পর ফেরিতে উঠেছি। এভাবে প্রতিদিনই অপেক্ষার পর ফেরি পাওয়া যায়। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাই।
মঙ্গল মাঝিরঘাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মেহেদী হাসান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিকেল ৪টার পর ঘাটটিতে গাড়ি বাড়তে শুরু করে। এ ঘাটটি ছোট, তাছাড়া ফেরি চলাচল করে কম। গাড়ি ও যাত্রীদের শৃঙ্খলা রাখতে আমরা কাজ করছি।
শরীয়তপুরের মঙ্গল মাঝিরঘাট ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার কারণে রাতে বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরি চালানো বন্ধ থাকে। তাই বিকল্প মঙ্গল মাঝির ঘাটে গাড়ির চাপ বেড়েছে। তাই আমরা মঙ্গল মাঝির ঘাটে ফেরি বাড়ানোর কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ফেরি বাড়ানো হলে আশা করি গাড়ির চাপ কমবে।