ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের ঈদুল আজহায় সাতদিনে তাদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। এতে নতুন করে হাসি ফুটেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে।

.png)
জানা যায়, কুয়াকাটা পর্যটন নগরীতে ছোটবড় মিলে ১৫০টির বেশি হোটেল-মোটেল রয়েছে। এসব হোটেল-মোটেলের পর্যটক ধারণ ক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার আগে সরকারি ছুটিতে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তবে এ বছর ঈদের তৃতীয় দিন থেকে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে কুয়াকাটায় অর্ধলাখের অধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তবে হোটেল-মোটেলের কক্ষ না পেয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয়দের বাসা-বাড়িতে।

এদিকে, আবাসন সংকট নিরসনে হোটেল-মোটেল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা। তারা বলছেন, বিগত দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুয়াকাটায় পৌঁছতে যাত্রা পথে ভোগান্তি পোহাতেন দর্শনার্থীরা। তবে পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় ভোগান্তি না থাকলেও সংকট ছিল আবাসনের।
ঢাকার মালিবাগ থেকে আসা দম্পতি ইয়াসিন খান ও কল্পনা জানান, ইচ্ছে থাকলেও আগে কখনো সন্তানদের নিয়ে কুয়াকাটায় আসার পরিকল্পনা করেননি তারা। তবে পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় এবারের ঈদুল আজহায় কুয়াকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন তারা।
শরীয়তপুর থেকে আসা আল-আমিন জানান,ব্যবসায়ীক কাজের ব্যস্ততায় ভ্রমণ করতে পারেননি অনেকদিন। এ বছর স্ত্রী-সন্তান এবং মাকে নিয়ে সমুদ্র দেখতে কুয়াকাটায় এসেছেন। পথে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করেছেন স্বপ্নের পদ্মাসেতু দেখে।
কুয়াকাটা সৈকতের আইসক্রীম বিক্রেতা হান্নান জানান, অন্যান্য বছর প্রতিদিন ২০০ আইসক্রীম বিক্রি হলেও এবার কোরবানির ঈদে ৬০০ থেকে হাজারটা পর্যন্ত আইসক্রীম বিক্রি করেছেন তিনি। এ জন্য পদ্মাসেতু নির্মাতাদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতলেব শরীফ জানান, অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত ৭৫টি হোটেল রয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিন থেকে এসব হোটেলের অধিকাংশ রুমই বুকিং রয়েছে। তিন দিনে প্রতিটি হোটেলে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি সেল হয়েছে। এর বাইরে সিকদার রিসোর্ট, গ্রান্ড প্যালেস এবং খান প্যালেসসহ বড় হোটেলগুলোতে কোটি টাকার উপরে সেল হয়েছে। এছাড়া অ্যাসোসিয়েশনের বাইরেও ৪০-৫০টি ছোট হোটেল রয়েছে, তাদের সেলও অনেক ভালো।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল খালেক জানান, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে কুয়াকাটায় ব্যাপক পর্যটকের আগমন ঘটতে শুরু করেছে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশের বাড়তি টিম।