ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সন্ধ্যা হলেই বসে মাদকের হাট 

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৩:৪১, ৩০ জুলাই ২০২২
সন্ধ্যা হলেই বসে মাদকের হাট 
ফাইল ছবি

চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন। নীরব নিস্তব্ধ এলাকা। লোকজন যার যার মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন। এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠছে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা। তারা সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যালয় মাঠে মাদক বেচা-কেনার হাট বসায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউপির আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকের হাট বসে- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়সহ আশপাশে মাদক কারবার বাড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা তাদের কোমলমতি সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। 

উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্বে সীমান্তঘেঁষা আনোয়ারপুর গ্রাম। সীমান্ত পিলার থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরত্বে রয়েছে আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই প্রাচীন বিদ্যালয়টি ১৯৩৯ স্থাপিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একটি ভবন পরিত্যক্ত। পাশাপশি চারটি টয়লেটের মধ্যে দুটি টয়লেট পরিত্যক্ত। এ পরিত্যক্ত ভবন আর টয়লেটগুলোর পাশাপাশি সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে শতশত স্কফ সিরাপের খালি বোতল ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি পড়ে আছে। পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদের বসার জন্য খড় বিছানো রয়েছে পরিত্যক্ত টয়লেটে। 

Advertisement

স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয় ছুটির পর সন্ধ্যা নামলেই এ বিদ্যালয়ের চারদিক মাদক কারবারিদের দখলে চলে যায়। তারা রাতভর মাদক সেবন ও বিক্রি কার্যক্রম করে। স্থানীয়রা তাদের কাছে অসহায়। কিছুই বলতে পারছেন না তারা। মাদকের খালি বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশও।
 
শিক্ষার্থী জুয়েল মিয়া জানায়, টয়লেটের কাছে প্রতিদিন এক জাতের খালি বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে খুবই খারাপ লাগে। 

অভিভাবক ফুরকান মিয়া বলেন, এ স্কুল সন্ধ্যার পর মাদকদ্রব্য সেবনের আখড়ায় পরিণত হয়। নিয়মিত মাদক সেবন ও বিক্রি হয়ে থাকে। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। 

প্রধান শিক্ষক সুলতানা ফেরদৌসী বলেন, প্রায় সময় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে মাদকের খালি বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ নিয়ে আমরা খুবই বিব্রত। বিষয়টি তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ অন্য সদস্যদের জানিয়েছেন। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
 
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এটা অনাকাঙ্খিত বিষয়। বিদ্যালয় ছুটির পর পরিবেশটা নিরিবিলি হয়ে যায়। বিষয়টি এর আগে কেউ জানাননি। যেহেতু ফেনসিডিলের বোতলগুলো পরিত্যক্ত টয়লেট এবং সেফটিক ট্যাংকের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে, তাই বিষয়টি নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় কথা বলব।

আখাউড়া থানার ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির লোকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে মাদক নির্মূল করা হবে।

ইউএনও অংগ্যজাই মারমা বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তৎপর রয়েছে। মাদক নির্মূলে যা করার দরকার তাই করা হবে। এর মধ্যে রাতে ওই বিদ্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন কাউকে পাওয়া যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!