লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের অদূরে ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের পাশে ঘেঁষা খোয়াসাগরটি অপরূপ সৌন্দর্যের বেলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় জমে। ছোট-বড় শিশু বৃদ্ধ নারী পুরুষ সব বয়সের মানুষ এক নজর দেখতে আসে খোয়াসাগর দীঘিটি।
সম্প্রতি খোয়াসাগর দীঘি পার্কটি আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন।
.png)

দীঘির পাড়ে পার্কিং টাইলস দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে পর্যটকদের জন্য টুল। চারপাশে ফুলের বাগান দিয়ে সাজানো হয়েছে। ফলে পর্যটকদের আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে খোয়াসাগর দীঘি।
আরো পড়ুন >>> বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন
এদিকে খোয়াসাগর দীঘি ও খোয়াসাগর পার্ককে ঘিরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট ও কফি হাউজ। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসে এসব পর্যটন৷ মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ক্লান্তি দূর করতে ছুটে আসে নারী-পুরুষ ও শিশু বৃদ্ধসহ সব বয়সী পর্যটন। এ যেন এক পরিচিত অপরিচিত মানুষের মিলনমেলার স্থান।

প্রতিদিন বিকেল ৩টার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলার দালাল বাজার খোয়াসাগর দীঘির পাড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে। ঈদ উপলক্ষে আরো বেশি দর্শনার্থী ভিড় করেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তারাও সপরিবার নিয়ে এ দীঘির পাড়ে সময় কাটাতে আসেন।
খোয়াসাগর দীঘির দুই পাড়ে মনোরম পরিবেশে ছোট বড় ২০টি বিভিন্ন ক্যাফে রেস্টুরেন্ট ও শিশুদের বিনোদনের জন্য শিল্পাঙ্গন নামে একটি ছোট পার্ক আছে। রয়েছে বেশ কয়েকটি চটপটির দোকানও। ফলে খোয়াসাগর দীঘি ও সাগরদীঘির পার্কে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে শতাধিক মানুষের।
আরো পড়ুন >>> ঝিনাইদহে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
রায়পুর উপজেলার বাড়ি মো. পারভেজের। বিকেলে বন্ধুদের ঘুরতে এসেছেন তিনি। জানতে চাইলে পারভেজ জানান, ঈদের সময় ছাড়াও তারা প্রায় এ দীঘির পাড়ে সময় কাটাতে আসেন। এখানের আবহাওয়া তাদের কাছে অনেক ভালো লাগে। ঈদের দিনে এতো মানুষ হয়েছে, যা এর আগে তারা দেখেননি।

মরিয়ম আক্তার কামান খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে তার বড় ভাই জুবায়ের সঙ্গে দীঘির পাড়ে ঘুরতে এসেছেন। মুক্ত পরিবেশ ও খোলা আকাশ পেয়ে মরিয়ম উচ্ছ্বসিত।
সাদ্দাম চটপটি হাউসের মালিক মো. সাদ্দাম জানান, ঈদের দিন ১১ হাজার টাকার চটপটি বিক্রি করেছেন। এতে তার ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে তার চটপটি দ্বিগুণ বিক্রি হয়। এদিন ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকার চটপটি বিক্রি হবে বলে আশা করেছেন তিনি।

আরো পড়ুন >>> মোনায়েমের পরিবারে খুশির বন্যা
ফ্যামিলি ফিশ ফ্রাই অ্যাণ্ড মিনি চাইনিজের স্বত্বাধিকারী মো. আজাদ হোসেন জানান, ঈদের দিন প্রায় তার চাইনিজে ২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে তার ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লাভ হবে।
প্রায় ২৫ একর এলাকা জুড়ে দালাল বাজার সংলগ্ন খোয়া সাগর দীঘি। কুয়াশাকে স্থানীয় ভাষায় ‘খোয়া’বলা হয়। দীঘির বিরাট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের ফলে এক প্রান্ত দাঁড়িয়ে অন্য প্রান্তে কুয়াশাময় মনে হতো বলে এ দীঘির নাম খোয়া সাগরদীঘি। ১৭৫৫ সালে জমিদার ব্রজ বল্লভ রায় মানুষের পানীয় জল সংরক্ষণে এ দীঘি খনন করেন। এ দীঘি নিয়ে অনেক উপকথা ছড়িয়ে আছে।