কারাগারে বিয়ে হওয়া এ দম্পতি নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি হয়েছিল। ধর্ষণের অভিযোগকারীর সঙ্গে অভিযুক্তের বিয়ে হওয়ায় অনেকেই নানা মন্তব্য করেছিলেন। আবার অনেকে আদালতের ব্যতিক্রমী এ অভিপ্রায়কে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন। তবে তাদের দাম্পত্য জীবনটা কেমন হয়; এ নিয়ে অনেকেরই জানার আগ্রহ ছিল। বর্তমানে এ দম্পতি বেশ সুখেই আছেন।
জিয়া ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় সোনাগাজীর চর দরবেশে বাড়ির বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার চর দরবেশে বাড়িতে গিয়ে দেখা মেলে জিয়ার স্ত্রীর হাসিমুখ। কোলে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। নাম রাখা হয়েছে আসমা আক্তার রাইফা। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তার জন্ম হয়।
.png)
জহিরের স্ত্রী জানান, আদালতের কাছে তারা স্বামী-স্ত্রী খুবই কৃতজ্ঞ। তারা এখন বেশ ভালো আছেন। সংসারে নেই কোনো কলহ। মেয়ে আর পরিবারের অন্যদের নিয়ে বেশ আছেন তারা। এলাকায় একটি দোকান দিয়েছেন স্বামী জিয়া।
জহিরের মা অমলা বেগম বলেন, ছেলের বউকে মেয়ের মতোই দেখি। নিজের মেয়ে যেভাবে আদর-যত্নে থাকে ছেলের বউও তেমন রয়েছে।
জহিরের শ্বশুর আবদুল হাই জানান, আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে তাদের মেয়ে একটি সুন্দর সংসার পেয়েছে। মেয়ে এখন বেশ সুখে শান্তিতেই আছে।
বাবার ফসলের মাঠে থাকায় সরাসরি কথা হয়নি জিয়ার সঙ্গে। মুঠোফোনে তিনি জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। তাদের ঘরে মেয়ে সন্তান এসেছে, মেয়েকে নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবন বেশ ভালোই কাটছে।
জহিরের বাবা সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ছেলে ও পুত্রবধূ খুব ভালো আছে। তাদের মধ্যে কোনো ধরনের দাম্পত্য কলহ নেই।
এ মামলার আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী বলেন, তারা ভালো আছে জেনে ভালো লাগছে। তাদের সন্তান হয়েছে শুনে খুশি হয়েছি। একদিন তাদের সন্তানকে গিয়ে দেখে আসব। তাদের সুখের সংসারের কথা শুনলে আদালতও খুশি হবেন।
জিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী এক মেয়ের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের সম্পর্ক অনেক দূর গড়ায়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে তাদের বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় দুই পরিবার। কিন্তু উদ্যোগ সফল না হলে ২০২০ সালের ২৭মে মেয়ের পরিবার থানায় জহিরের নামে ধর্ষণ মামলা করে। সে মামলায় জহিরকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন জিয়া। ওই বছরের ১ নভেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে মেয়েকে বিয়ে করলে জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান আদালত। পরে কারাগারে তাদের বিয়ের তারিখ ধার্য করা হয়। ১৯ নভেম্বর কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়। ৩০ নভেম্বর জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেন হাইকোর্ট।