ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পাখিরা খেলেই তৃপ্তি পান দুলাল

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৫, ৩০ অক্টোবর ২০২২
পাখিরা খেলেই তৃপ্তি পান দুলাল
চানাচুর হাতে নিয়ে দুলাল ডাকলেই নিচে নামে শত শত পাখি

ঝালমুড়ি বিক্রেতা দুলাল। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। থাকেন ঝুপড়ি ঘরে। ঝালমুড়ি বেচেই খাবার তোলেন ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীর মুখে। কোনোরকম দিন কাটলেও নতুন করে দুলালের সংসারে অতিথি হয়ে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। নিজের পেটে খাবার না গেলেও পাখিদের নিয়মিত খাওয়ান। পাখিরা খেলেই এক ধরনের তৃপ্তি পান এ বিক্রেতা।

দুলালের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার জোড়মল্লিকা গ্রামে। তার বাবার নাম কাচু প্রামাণিক। ঝালমুড়ি বিক্রির টাকায় চলে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসার। কিছু টাকা বাঁচিয়ে কেনেন পাখিদের খাবার।

জোড়মল্লিকা গ্রামেই দেখা মেলে পাখিপ্রেমী দুলালের। চানাচুর হাতে নিয়ে মাটিতে ছিটাতে ছিটাতে আদরের ভাষায় ডাকছেন পাখিদের। দুলালের ডাকে সাড়া দেয় পাখিরাও। সন্তানের মতোই পাখিদের মুখে খাবার তুলে দেন ঝুপড়ি ঘরে থাকা এ ঝালমুড়িওয়ালা।

নিয়ম করেই প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুলালের খাবার খেতে নিচে নেমে আসে বুলবুলি, চড়ুই, ময়না, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত পাখি। খাবার শেষ হলেই কাজে ফেরেন দুলাল। এভাবে পাঁচ বছর ধরে পাখিদের ভালোবেসে খাবার দিচ্ছেন তিনি। পাখিদের প্রতি তার এমন ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ অনেকেই।

জোড়মল্লিকা সেতুর পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে ঝালমুড়ির পসরা সাজিয়ে বসেন দুলাল। বিকেল ৪টা বাজলেই বিদ্যুতের তারে একে একে বসতে থাকে পাখির দল। এরপর চানাচুর নিয়ে মাটিতে ছিটাতে ছিটাতে পাখিদের ডাকতে থাকেন দুলাল।

স্থানীয়রা জানায়, পাঁচ বছর আগে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করেন দুলাল। তবে আশা দিয়েও তাকে ভোট দেননি লোকজন। এরপর থেকেই পাখিদের নিয়মিত খাবার দিতে থাকেন।

দুলাল বলেন, ছোটবেলা থেকেই পাখিদের প্রতি একটা টান ছিল। সেই টান থেকেই পাখিদের প্রতি এমন ভালোবাসা। প্রথমে খাবার ছিটালে কিছু পাখি আসতো। এখন আমার ডাকে শত শত পাখি আসে।

এ পাখিপ্রেমী বলেন, প্রতিদিন খাবার ছিটিয়ে পাখিদের জন্য বসে থাকি। দিনে দিনে পাখির সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন ১২০ টাকার চানাচুর লাগে। নিজের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করি। কখনো কখনো নিজে না খেয়েও তাদের খাবার জোগাড় করি।

সিংড়া পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু জাফর সিদ্দিকী জানান, পাখিদের প্রতি দুলালের এমন ভালোবাসা অনন্য। পরিবেশ ও প্রকৃতি বাঁচাতে তিনি এগিয়ে এসেছেন। পাখিসহ সব জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, ঝালমুড়ি বিক্রেতা দুলালের এ কাজটি সত্যিই প্রশংসনীয়। পাখিদের প্রতি তার এমন ভালোবাসা অনন্য।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
ট্যাগ: নাটোর পাখি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!