ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তিনি নম্বরের দিক দিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার সেরা হয়েছেন। তার পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর হচ্ছে ১২৪২।
এসএসসি পরীক্ষায় ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ৭ নম্বর কক্ষে তিনি পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেন।
পরীক্ষা খাতায় মানিক রহমান ডান পা দিয়ে লিখলেও লেখাগুলো ঝকঝকে ও স্বাভাবিক হাতের লেখার চেয়েও অনেক ভালো। তার পায়ের লেখা দেখে অনেকে চমকে যায়। অনেকে বলেন সৃষ্টিকর্তা তার হাত না দিলেও পায়ের শক্তি দিয়েছেন।
.png)
ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার জানান, মানিক রহমান অদম্য মেধার অধিকারী। সে জেএসসিতে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়ে সে অদম্য মেধার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার জীবনের সফলতা কামনা করি।
 photo-3_1669640628.jpeg)
মানিকের বাবা মিজানুর রহমান ময়না জানান, মানিক কষ্ট করে পা দিয়ে পরীক্ষায় খাতায় লিখে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে আমাদের বুক আনন্দে ভরে দিয়েছে। সে ভবিষ্যতে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। আমি তার স্বপ্ন পূরণে দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
মানিকের মা অধ্যাপক মরিয়ম বেগম জানান, মানিক রহমান কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মা হিসেবে মানিকের স্বপ্নপূরণের জন্য সরকারসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
মানিক রহমানের নানা অবসরপ্রাপ্ত কলেজ সহকারী আব্দুল মজিদ জানান, মানিক জিপিএ-৫ পাওয়ায় মনের আনন্দে এলাকাবাসীর মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছি ও তার জন্য মিষ্টি নিয়ে এসেছি।
মানিক রহমান বলেন, হাত না থাকলেও পায়ে কলম ধরে পরীক্ষার খাতায় লিখে যাচ্ছি। আমার ইচ্ছা পূরণে বাবা-মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রেরণায় লেখাপড়া করে ভালো ফল করার চেষ্টা করছি। এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। ঢাকা নটরডেম কলেজে লেখাপড়া করতে চাই। ভবিষ্যতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা চাই।
২০০৫ সালের ৪ ডিসেম্বর সালে জন্ম নেয়া শিশু মানিক রহমানের জন্ম থেকেই দুই হাত ছিলনা। তার ডান পায়ের চেয়ে বাম পা জন্ম থেকেই ছোট। জন্মের সময় থেকে তার ঠোঁট ও তালু কাটা থাকলেও পরে ঠোঁট ও তালু অপারেশন করে কাটা অংশটি ভালো করা সম্ভব হয়।
মানিক জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী হলেও সে নিজেকে স্বাভাবিক মনে করে পথ চলছে। তার দু’হাত না থাকলেও সে পা দিয়েই প্রায় সব কিছুই করতে পারে। শুধু খাওয়া, গোসল, টয়লেটে বাবা মাকে সাহায্য করতে হয়।
মানিক রহমান গান গাওয়া ও কবিতা আবৃত্তিতে পারদর্শী। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার গান ও আবৃত্তি পরিবেশন দেখা যায়।