ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ আইস ও হুন্ডির টাকা ব্যাংক কিংবা লকারে রাখার সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা এসব কালো টাকা দিয়ে সোনা কিনে রাখাকেই নিরাপদ মনে করছে।
জানা গেছে, মিয়ানমারে সোনার দাম ভরিতে আট-দশ হাজার টাকা কম। বাড়তি লাভের আশায় মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে সোনা নিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। এসব সোনা ছড়িয়ে পড়ছে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে।
.png)
গত কয়েকদিন আগে উখিয়া কাস্টম ঘাট এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে কোটি টাকার সোনা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত আগস্টে ৩ কেজি ৩২২ গ্রাম ওজনের ২০টি সোনার বারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বিজিবি।
৩৪-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদী হোসাইন কবির বলেন, মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আনা সোনার চালানগুলো আশ্রয় শিবিরে নেয়া হচ্ছিল। উদ্ধার করা সোনার দাম প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
সবশেষ সোনা উদ্ধারের ঘটনার আগে গত ৮ মাসে কেবলমাত্র নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, উখিয়ার রহমতের বিল, পালংখালী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৭১ কোটি টাকার ৫৬ লাখ ৮১ হাজার ইয়াবা, ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকার ১৪ কেজি ২০ গ্রাম আইস এবং ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার ৩ কেজি ৩২৩ গ্রাম ওজনের ২৪টি সোনার বার উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ সময় গ্রেফতার করা হয় ৭৫ জন চোরাকারবারিকে।
গত এক বছরে ৪৬৩ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৩৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে ইয়াবা ৪০ লাখ ৩২ হাজার ও আইস ৫৪ কেজি ৫৭০ গ্রাম। এ সময়ে সোনা উদ্ধার করা হয়েছে ২১ কেজি ৮০৭ গ্রাম।
টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় মিয়ানমারের সোনার দাম কিছুটা কম। এ কারণে এখানে চাহিদা বেশি। ছয় লাখ রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণী বেকার। সেই সঙ্গে প্রত্যাবাসনও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এজন্য এ ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক নেতা বলেন, ক্যাম্পে মাদক, হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০ হাজার লোক।
তিনি আরো বলেন, এসব অবৈধ ব্যবসার বেশিরভাগ টাকা লেনদেন হয় হুন্ডির মাধ্যমে।