বগুড়ায় মেলার নামে লটারি জুয়া
সাদিকুল সপ্তম ও নিরব ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। দুজনে এসেছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায়। ঘুরে ঘুরে স্টলগুলো দেখছিলো তারা। হয়তো কিছু খেতেও মন চাচ্ছিলো তাদের। কিন্তু খাবার না কিনে মেলা থেকে কিনলো তারা লটারি!
টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে একটি করে লটারি কেনে দুজন। শুধু তারাই নয়, তাদের মত শতশত শিক্ষার্থী আকর্ষণীয় পুরস্কারের লোভে ভাগ্য পরীক্ষার লটারি কিনছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন চিত্র দেখা গেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায়। ওই উপজেলার বি-ব্লক মাঠে বগুড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় শুরু হয়েছে প্রবেশমূল্যের লেবেলে লটারি জুয়া। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মেলা শুরু হলেও আজ থেকে সেখানে শুরু হয়েছে লটারি জুয়া, চলবে মাসব্যাপী। প্রতিদিন রাত ৯ টার দিকে হবে লটারির র্যাফেল ড্র।
.png)
মেলার অন্তরালে চলা এই জুয়ার লটারি কিনতে আসা সাদিকুল ও নিরব বলে, তারা ওই উপজেলার কামারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে তারা একটি করে লটারি কিনেছে। প্রতিটি লটারির দাম ২০ টাকা।
উপজেলার মাঝিড়া বন্দর, দুবলাগাড়ি, বি-ব্লকসহ জেলা জুড়ে এই মেলার লটারি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ লটারি কিনছেন।
এই মেলার আয়োজক বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। জানতে চাইলে সংগঠনটির বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু বলেন, এবারের মেলায় আয়োজন আমরাই করেছি।
লটারি বিক্রির অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অফিসে আছি, অফিসে এসে দেখা করেন।
শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রউফ বলেন, মেলায় লটারি বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মেলায় লটারি বিক্রির কোনো অনুমোদন নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। মেলার নামে লটারি বিক্রি করতে পারবে না তারা।