ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

২১ কোটি টাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব
প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ২০ মার্চ ২০২৩
২১ কোটি টাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুরাতন ফেরিঘাটে মেঘনা নদীর পাড়ে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটিতে ব্যবসা শুরু না হওয়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 

মৎস্য ব্যবসায়ীদের অনেকে শর্ত অনুযায়ী অগ্রিম টাকা দিয়ে দোকান বরাদ্দ নিলেও টাকা ফেরত নিয়েছেন। 

মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন কেন্দ্রে ব্যবসা করতে যেসব শর্ত দিয়েছে, তা মেনে ব্যবসা করলে লাভবান হওয়া যাবে না। পুরোনো কেন্দ্রে ভাড়া দিতে হয় না, নতুন জায়গায় গেলে ভাড়া গুনতে হবে। আর নতুন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এতে করে নির্মাণের পর ১৭ মাস পেরুলেও এখনো চালু হয়নি এই নতুন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে ভৈরবে পুরোনো মেঘনা ফেরিঘাটে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ২০ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ৪ তলাবিশিষ্ট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ শুরু করে মৎস্য অধিদফতর। নির্মাণ শেষ হয় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর ওই বছর ১৩ অক্টোবর নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। অবতরণ কেন্দ্রটি ২৭ শতাংশ ভূমির ওপর নির্মিত হয়েছে। 

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

ভবনের চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর, অকশন শেড, প্যাকিং শেড, ৩৫টি আড়ত ঘর, একটি বরফকল, সোলার প্যানেল, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, গভীর নলকূপ, আইস ক্রাসার ও জেনারেটর ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। 

নবনির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে একজন ব্যবস্থাপক, একজন ল্যাব কন্ট্রোলার ও একজন নাইট গার্ড রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের ১৭ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রটিতে ব্যবসা করতে আসছেন না। পুরাতন নৈশকালীন মেঘনা মৎস্য আড়তে দোকান রয়েছে ১৫০টি।

চিশতীয়া মৎস্য আড়ৎ মালিক মো. সোহেল মিয়া বলেন, বর্তমানে যেখানে আছি সেটি আমাদের পুরোনো মৎস্য আড়ত। নব্বইয়ের দশক থেকে এই আড়ত চালু আছে। সরকার ভৈরবের মৎস্য ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য দুই বছর আগে নতুন একটি কেন্দ্র তৈরি করেছে। সেখানে মৎস্য ব্যবসায়ীদের যেতে আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু আমরা পুরোনো মৎস্য আড়তেই ভালো আছি। বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ চলছে। তবে ব্যবসায়ীরা এই আড়তে যার যার নিজস্ব জায়গায় ব্যবসা করছেন। তাদের কোনো ভাড়া দিতে হয় না। সরকারের নতুন ভবনে যদি যাই, তাহলে সেখানে অগ্রিম ভাড়া ও কমিশন দিতে হবে। আমরা পুরোনো মৎস্য বাজারেই থাকতে চাই।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

মাছ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বলেন, অবতরণ কেন্দ্রে মাছ রাখা বা প্রসেসিং করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। যদিও আগের মতো মিঠা পানির মাছ এখন আড়তগুলোতে আসে না। তবুও পুরোনো মৎস্য আড়তে ৪-৫ জন আড়তদারের কাছে পরিমাণ মাছ আসে, সে পরিমাণ মাছ দিয়ে পুরো ভবনের জায়গা ভরে যাবে। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সরাসরি হাওর-বাঁওড় বা নদীর মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে। তাই স্থানীয় ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এখানকার সরবরাহকৃত মাছ বিদেশে কিছুটা রফতানি করায় কোনো রকমে ব্যবসায়ীরা টিকে আছে।

কথা হয় ভৈরব মেঘনা মৎস্য আড়তদার মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের সঙ্গে। 

তিনি বলেন, ৩৫-৩৭ বছর আগে পুরোনো মৎস্য আড়তে সবাই জায়গা কিনে নিজস্ব ভিটে ব্যবসা করছি। তবে ২-৩ বছর আগে সরকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ভবন তৈরি করেছে। আমরা সমিতির পক্ষ থেকে সব ব্যবসায়ীকে বলেছি নতুন ভবনে যেতে, কিন্তু তারা অগ্রিম ভাড়া দিয়ে যেতে আগ্রহী না। 

তারা বলেন, যেখানে আছি সেখানেই থাকতে চাই। মৎস্য বাজারে সব ব্যবসায়ী তাদের নিজস্ব ভিটেই ব্যবসা করছেন। যেসব শর্ত দিয়েছে তা মেনে অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব না। এখানে তাদের কোনো ভাড়া দিতে হয় না। কিন্তু নতুন ভবনে গেলে মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া, এক লাখ টাকা অগ্রিম ভাড়া, বিক্রীত মাছের ওপর দুই শতাংশ কমিশন দিতে হবে।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ছিন্দিকুর রহমান বলেন, সরকার ভৈরবের মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত একটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী কেন্দ্রে ব্যবসা শুরু করেননি। তবে মৎস্য ব্যবসায়ীরা যেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসে ব্যবসা করেন সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে কোনো উপায়ে তারা অবতরণ কেন্দ্রে এসে ব্যবসা করবেন, সেই বিষয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!