ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীর ভিড়

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) 
প্রকাশিত: ১৩:০৫, ৩১ মার্চ ২০২৩
সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীর ভিড়
সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীর ভিড়

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য মোহিত করে তুলেছে ভ্রমণপিপাসুদের। উপজেলার ৯ নম্বর দক্ষিণ চর আবাবিল ইউপির গাইয়ারচর গ্রামের মো. পলাশ মেম্বার, আনোয়ার ও জটিল মেম্বারের উদ্যোক্তার দুই একর জমি নিয়ে গড়া সূর্যমুখী বাগান দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ঢল নামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল আকারের হলুদ গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে লাখ লাখ সবুজ পাতার মাঝে মাথা উঁচু করে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুল। ফুলগুলো বাতাসে দোল খেয়ে যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার। তাই দিনভর সূর্যমুখী বাগানে ভিড় করছে শত শত মানুষ। ভিড় বাড়ে বিকেলে ও ছুটির দিনে। পাহারাদার রেখেও দর্শনার্থীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাগানের মালিকরা। হলুদ রঙের শাড়ি কিংবা কামিজ পরে ছবি  তুলছেন অনেকেই। কেউবা খোপায় হলুদ ফুল গুজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাগানের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত। শিশুরাও মেতেছে আনন্দে।

সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীর ভিড়

Advertisement

বাগান মালিক মো. পলাশ মেম্বার ও জটিল মেম্বার বলেন, গত বছর এবং এবার এই সূর্যমুখী চাষ করি। গত বছর ৫০ শতাংশ জায়গায় আমরা প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক সূর্যমুখী চাষ করেছিলাম। ভালো ফলন, সেই সঙ্গে লাভবান হয়েছিলাম। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা নিয়ে এ বছর প্রায় দুই একর জমি নিয়ে বাগান করা হয়েছে, যেটা ব্যক্তি উদ্যোগে লক্ষ্মীপুর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম সূর্যমুখী বাগান। জমি চাষে আমাদের প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে অনেক ফুল এখন গাছে আছে। আশা করছি লাভবান হতে পারব।

তারা আরো বলেন, ৩০ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করলে যেমন তেল হয় সূর্যমুখীতেও তা-ই হবে। কিন্তু সূর্যমুখীর খরচ ও রোগবালাই কম। তেল বিক্রি করে লাভবান হলে আগামীতে আরো বড় পরিসরে প্রজেক্ট আকারে চাষ করব।

দক্ষিণ চর আবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম জিকু হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ এ ফুলের বাগান দেখতে ও ছবি তুলতে আসেন। শুক্রবার-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে জনস্রোত নামে। তাদের এই উদ্যোগ দেখে আমি পরিষদের সামনে একটি সূর্যমুখী ফুলের বাগান করি।  

সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীর ভিড়

উপজেলা কৃষি অফিসার তহমিনা খাতুন বলেন, সূর্যমুখী তেল অনেক উন্নতমানের ও স্বাস্থ্যসম্মত। সরকার সূর্যমুখীর চাষ বাড়াতে কৃষককে বিভিন্ন প্রকল্প এবং প্রণোদনার মাধ্যমে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকার তেল উৎপাদনে জোর দিয়েছে। সে হিসেবে চলতি বছর রায়পুরে সরিষা ও সূর্যমুখীর চাষ বেড়েছে। 

তিনি আরো বলেন, রায়পুরে বিনোদনের জায়গা কম থাকায় বাগানটিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে। এখানে এসে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন অনেকেই। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!