মৃত্যুর দিনেই স্কুলে যোগদানের অনুমতি পেলেন শিক্ষক রেজাউল
প্রধান শিক্ষক এম রেজাউল হক। ২০১০ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর নওগাঁর মান্দার আলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ ছয়মাস তিনি ছুটি অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় তার বেতন-ভাতা বন্ধ ছিল। ফলে খানিকটা আর্থিক টানাপোড়েন নিয়েই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি যেদিন মারা যান, সেদিনই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা শেষে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি প্রদান করা হয়।শিক্ষক রেজাউল হক মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বিলকরিল্যা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
শিক্ষক রেজাউল হকের স্ত্রী পান্না খাতুন জানান, দীর্ঘ ছয়মাসের বেশি সময় ধরে তার স্বামী হার্টের অসুখে ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন থাকায় মাঝে ছয়মাস তিনি স্কুলমুখো হতে পারেননি। ফলে তার বেতন বন্ধ থাকায় খানিকটা অর্থকষ্টের মধ্য দিয়েই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে চাকরিতে ফিরেছিলেন তিনি। ছুটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু জটিলতা নিরসন হয়নি গত দুমাসেও। এ অবস্থায় গত শনিবার হার্টস্ট্রোক হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার মারা যান তিনি।
.png)
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার শামসুজ্জামান বলেন, মেডিকেলের কাগজপত্র ও ছুটির আবেদন ছাড়াই প্রধান শিক্ষক এম রেজাউল হক ছয়মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তার বেতন-ভাতা স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে কাগজপত্র উপস্থাপন করায় তা অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। ছুটি অনুমোদন ছাড়া তার বিদ্যালয়ে যোগদান ও বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা ছিল।
তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি যেদিন মারা যান, সেদিনই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা শেষে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি প্রদান করা হয়।
মান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ জানান, শিক্ষক এম রেজাউল হক জীবিতাবস্থায় আর্থিক সংকটের কারণে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরে তা পরিশোধ করতে না পেরে মানষিক চাপে বেশ কিছুদিন থেকে হার্টের অসুখে ভুগছিলেন। এসব কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।