ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কণ্ঠেই জাদু ছড়ান ঝিনাইদহের নোমান

রামিম খান, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ১৮ নভেম্বর ২০২৩
কণ্ঠেই জাদু ছড়ান ঝিনাইদহের নোমান
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেখে একদমই বোঝার উপায় নেই এই ছেলেটির কণ্ঠেই রয়েছে জাদু। যেকোনো কণ্ঠ হুবহু নকল করে ফেলতে পারেন যখন তখন। এমন জাদুকরী কণ্ঠের অধিকারী হতে তাকে নিয়মিত চর্চা করতে হয়। শুধু দেশে নয় বিদেশেও যাচ্ছেন আব্দুল্লাহ আল নোমান কণ্ঠের জাদু ছড়াতে। তিনি ঝিনাইদহের ছেলে হওয়ায় জেলাবাসীও গর্বিত।

প্রতিদিন সকাল ৯টায় ঝিনাইদহ ইসলামিক আইডিয়াল স্কুলে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। তিনি এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক। বাচ্চারা নোমান স্যারের ব্যতিক্রমী ক্লাস কখনই মিস করতে চায় না। বিভিন্ন জনপ্রিয় কার্টুনের চরিত্রের কণ্ঠ হুবহু নকল করে বলে চলেছেন তিনি। বিনোদনের সঙ্গে চলছে পড়াশোনা। বাচ্চারা পাচ্ছে অনাবিল আনন্দ। দ্রুত রপ্ত করছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

এ তো গেল একরকম। তার কণ্ঠে আরো রয়েছে ব্যতিক্রমী ভিন্নতা। যা নিজে কানে না শুনলে বোঝার একদমই উপায় নেই যে তিনি কোন চরিত্রের মিমিক্রি করছেন। ক্রিকেট বা ফুটবল ধারাভাষ্যকারদের মিমিক্রি যে এতো সহজে করা সম্ভব তা নোমানকে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না। সেইসঙ্গে চলে জনপ্রিয় সব গায়কের কণ্ঠের গান। যা শুনলে শুধু অবাকই হতে হয় না সেইসঙ্গে তাকে বলতেই হবে তিনি ‘বিস্ময় বালক’ । নোমানের এসব ভিন্ন-ভিন্ন কণ্ঠের যাদুতে মুগ্ধ এলাকাবাসী, স্কুলের অবিভাবক এবং শিক্ষকরা।

Advertisement

স্কুলছাত্রী মেহজাবিন মুন বলেন, ‘স্যার খুব ভালো। তিনি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারেন। যেমন, মটু-পাতলু, ইংরেজি ধারাভাষ্য, ক্রিকেটের কথা। আমরা তো শুনে অবাক হই।’

অবিভাবক জাহানারা ফেরদৌস বলেন, ‘সবাই তাকে নিয়ে গর্ব করছেন। পৃথিবীর অন্যতম কঠিন ও দূরহ কাজ হচ্ছে অন্যের কণ্ঠের নকল করা। সে যেভাবে এতো সহজে এই বিরল কাজটি করছে অবলীলায় তা দেখে ও শুনে সবাই অবাক।’

স্কুলেন শিক্ষক নাজনিন নাহার বলেন, ‘স্যারের কারণে মাত্র এক বছরে আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ১০০ ছাড়িয়েছে। এ এক বিরল প্রতিভা। যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে যখন তখন।’

অন্যদিকে, স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন তার স্বামীর এই বিশেষ গুনে খুবই খুশি একসময় তার কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক না লাগলেও এখন তিনি এমন ব্যতিক্রমী বৈশিষ্টে অনেক পছন্দ করেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, এটা দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফল। এর জন্যে তাকে বছরের পর বছর কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি মিমিক্রি করে শুধু দেশে নয় ভারতেও বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন।  সবাইকে আনন্দ দেওয়া এই মানুষটিরও রয়েছে দুঃখ। তিনি বাংলাদেশের একজন সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি। সর্বোচ্চ ৯ বার তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেইসঙ্গে করোনা আক্রান্তদের সাহায্য করে গেছেন নিজের জীবন বাজি রেখে।

জানা যায়, নোমান ঝিনাইদহ শহরের আকরামুল হক ও নাসরিন নাহার দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে বড়। তিনি মালয়েশিয়ান কুয়লালামপুর ইউনিভার্সিটি অফ আর্টস থেকে ডিপ্লোমা করেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: ঝিনাইদহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!