জরাজীর্ণ সেতু, খসে পড়ছে স্লিপার:
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় ৯০০ মিটার সেতুটিতে দেওয়া স্লিপারের অনেকগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেকগুলো ভেঙে নষ্ট হয়ে খসে পড়েছে। নাটবোল্ট নেই অনেক জায়গায়। এই রেলসেতুটিতে রেলিং বা সেফ গার্ড নেই। অথচ এই সেতু পার হয়েই ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করেন শত শত লোকজন। নগরীর শম্ভুগঞ্জ স্টেশনের কাছে কোরেরপাড়ে আরো একটি ছোট সেতুরও একই অবস্থা। সেতুটির কিছু অংশে নাটবোল্ট নেই। শম্ভুগঞ্জ স্টেশন এলাকার বেশ কিছু অংশের রেললাইনে পর্যাপ্ত পাথর নেই। পাথর না থাকা অংশে কাঠের স্লিপারের নিচে মাটি সরে গেছে। কিছু কাঠে পচন ধরেছে।
লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেট ব্যারিয়ার:
এদিকে, রেলযাত্রাকে আরো বিপজ্জনক করে তুলেছে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং। ময়মনসিংহ রেলওয়ে অঞ্চলে প্রায় ২০০টি লেভেল ক্রসিংয়ের বেশ কয়েকটি অরক্ষিত। অনেক লেভেল ক্রসিংয়ে গেট ব্যারিয়ারও নেই। অথচ এমন অবস্থার মধ্য দিয়েই প্রতিনিয়ত ট্রেন চলছে। ফলে প্রায় সময়ই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
.png)
_1710416231.jpg)
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন হয়ে ময়মনসিংহ-ঢাকা, ভৈরব, মোহনগঞ্জ, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল ও জামালপুরগামী পাঁচটি রেলপথ রয়েছে। রেলওয়ের ময়মনসিংহ সাব-ডিভিশনের অধীন ময়মনসিংহ-শ্রীপুর সেকশনে ৯২টি, ময়মনসিংহ-বিদ্যাগঞ্জ সেকশনে ৩২টি, ময়মনসিংহ-গৌরীপুর এবং গৌরীপুর-আঠারোবাড়ী সেকশনের প্রতিটিতে ২৭টি করে, গৌরীপুর-মোহনগঞ্জ সেকশনে ৮২টি, শ্যামগঞ্জ-জারিয়া সেকশনে ২৫টিসহ মোট ২৮৫টি ছোট-বড় রেলসেতু ও কালভার্ট রয়েছে।
আতঙ্কে থাকেন পথচারীরা:
নগরীর কেওয়াটখালী এলাকার লিটন মিয়া বলেন, এই এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মিত রেল সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হয় হাজারও লোকজন। রেলসেতুটিতে রেলিং বা সেফ গার্ড নেই। ফলে যখন ট্রেন আসে তখন পথচারীরা আতঙ্কে থাকেন। দ্রুত এখানে রেলিং দেওয়া প্রয়োজন।
যা বলছে কর্তৃপক্ষ:
সার্বিক বিষয়ে রেলওয়ে ময়মনসিংহের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আকরাম আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, রেললাইনের সব অংশেই কর্মীরা যথাযথভাবে পাহারা দিচ্ছেন। এরপরও মাঝেমধ্যে নেশাগ্রস্ত কিছু মানুষ টাকার জন্য হুক বোল্ট চুরি করে নিয়ে যায়। পচে যাওয়া কাঠের স্লিপারগুলো চিহ্নিত করে পাল্টানো হয়।
তিনি আরো বলেন, রেল চলাচল নিরাপদ করতে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। সব লেভেল ক্রসিংয় তালিকা করে কোথাও গেট ব্যারিয়ার না থাকলে সেগুলো লাগানো হবে।