ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যা আতঙ্ক, তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১৭, ১৪ জুলাই ২০২৬
উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যা আতঙ্ক, তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন
সংগৃহীত ছবি

উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। কোথাও কোথাও সবজি ক্ষেত ও পাটক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। বিশেষ করে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলা পাউবো জানিয়েছে, সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ও দুধকুমার অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে তা দ্রুত বাড়ছে। ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচে।দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে।ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার নিচে।তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Advertisement

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে তিস্তা নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে যেকোনো সময় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম জানান, তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও সোমবার রাত থেকে তা আবারও দ্রুত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁসহ আশপাশের চরাঞ্চলগুলোতে নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা একেবারেই অপ্রতুল। সোমবার মাত্র ৫০টি পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

চর তৈয়বখাঁর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তোফায়েল হোসেন বলেন, “আগের দফায় তিস্তার পানি বাড়ায় আমার মরিচক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেই পানি পুরোপুরি নামার আগেই সোমবার রাত থেকে আবার পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে মাঠের বাকি ফসলটুকুও নষ্ট হয়ে যাবে।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ার কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন মোকাবিলায় জেলার অতিঝুঁকিপূর্ণ ৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪ কিলোমিটার অংশে আপৎকালীন কাজ চলছে। বাকি ২ কিলোমিটার এলাকার জন্য জরুরি বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!