স্থানীয়রা জানান, রিবিল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। কৃষিকাজ না থাকলে দিনমজুরি করে সংসারের খরচ চালান। সীমিত আয়ে আগে থেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এর মধ্যে একসঙ্গে ৩ সন্তানের জন্ম হওয়ায় পরিবারটির ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
নবজাতকদের দুধ, ওষুধ, চিকিৎসা, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা রিবিল মিয়া ও মা সেলন বেগম।
.png)
সন্তানদের সুস্থভাবে বড় করে তোলার স্বপ্ন থাকলেও অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বন্যায় তার ফসল তলিয়ে যায়। দিনমজুরি কোনো কাজও হাতে নেই। জীবন-জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন রিবিল মিয়া।
সেখানে গেলে কথা হয় এলাকার বাচ্চু মিয়া, নানু মিয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। বন্যার পর দিনমজুর রিবিল মিয়া বেকার। তার সামান্য ক্ষেত খামার পানিতে তলিয়ে যায়। এখন এলাকায় কাজও নেই। সংসার চালাতে তার খুবই কষ্ট হচ্ছে।
এলাকার সমাজ সেবক সুমন আহমদ বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসলে নবজাতক তিন শিশুর লালন পালনে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
রিবিল মিয়া বলেন, ‘সন্তান জন্মের আনন্দ আছে, কিন্তু তাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, চিকিৎসা করানো আর প্রয়োজন মেটানোর চিন্তায় দিন রাত কাটছে। সবার কাছে সহযোগিতা চাই।’
রাজনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল বলেন, বন্যা পুর্নবাসনের কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরইমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যমজ সন্তান পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।