দগ্ধরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়ির পাশ থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় সেখানে থাকা হনুফা বেগম, ইতি ও ফাহিম দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
.png)
শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল হাওলাদার বলেন, বাড়ির পাশে রাখা একটি বালুভর্তি বস্তার ভেতরে থাকা বোমা সদৃশ কোনো বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে তারা ধারণা করছেন। বিস্ফোরণের পর তার মা, বোন ও ভাগিনার শরীরে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে তারা বাড়ির সামনের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
জামাল হাওলাদার আরও বলেন, বোমা সদৃশ বস্তুটি বাড়ির পাশে কীভাবে এলো, সে বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু জানেন না।
ঘটনার খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কী ধরনের বস্তু বা বিস্ফোরক থেকে ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী ধরনের বিস্ফোরক বা বস্তু থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে বোমা সদৃশ বস্তুটি কীভাবে এল, বিস্ফোরণের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।