রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে পৈশাচিক হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রোববার রাতে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের আদালতে আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নিজেদের দোষ স্বীকার করে এ জবানবন্দি প্রদান করে।
তবে আসামিদের স্বীকারোক্তির পরও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য নিয়ে জনমনে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও অসঙ্গতি রয়ে গেছে।
.png)
পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া ও চিনে ফেলার কারণে শিক্ষকের বাসায় ঢুকেই চারজনকে হত্যা করা হয়। তবে নিহতদের স্বজন ও সুশীল সমাজের প্রশ্ন—নিরস্ত্র দুই যুবক কীভাবে চারজনকে একে একে হত্যা করল, ঘটনার সময় বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ কীভাবে বিচ্ছিন্ন হলো এবং ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য রাখা গচ্ছিত ৬০ লাখ টাকার হদিস কেন মিলছে না? এসব প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় এবং পুলিশের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সোমবার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, দেশজুড়ে আলোচিত ও স্পর্শকাতর এ হত্যা মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।