শহরের প্রধান সড়কগুলো একসময় মানুষের চলাচলের সুবিধা তৈরি করলেও বর্তমানে খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার কারণে সেগুলোই যেন পৌরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর সড়কের এমন বেহাল দশা চললেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার কথা বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। দ্রুত এসব সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে
.png)
পিরোজপুর শহরের সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রোডের চিত্র সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দে ভরা সড়কটি পানিতে ডুবে যায়। ফলে প্রতিদিন জলাবদ্ধতা ও কাদার মধ্য দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে এ সড়ক দিয়ে স্কুলে যাতায়াতের সময় ইউনিফর্ম নোংরা ও নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় পানিতে সড়কের খানাখন্দ বোঝা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।
সড়কজুড়ে খানাখন্দ, কোথাও যেন খাল
শুধু সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রোড নয়, শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ সড়কের একই অবস্থা বলে দাবি পৌরসভা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বলাকা ক্লাব রোডের দিকে তাকালে মনে হয়, রাস্তার ওপর দিয়ে যেন ছোট একটি খাল বয়ে চলছে। সড়কে জমে থাকা পানি ও অসংখ্য খানাখন্দের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, পথচারী ও রিকশাচালকেরা।
এ ছাড়া সিআইপাড়া, মণ্ডলপাড়া, মাছিমপুরসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার সড়কেরও একই চিত্র। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে।
রিকশাচালকেরা জানান, ভাঙাচোরা সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পানিতে চলাচল করতে গিয়ে রিকশার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে বাড়ছে মেরামত খরচ এবং কমছে আয়।
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, তবু অবকাঠামো বেহাল
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৬৫ সালে পিরোজপুর ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হয় পিরোজপুর। পরে ১৯৯০ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। তবে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র আশানুরূপ নয়।
বিশেষ করে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। শহরের বিভিন্ন সড়ক মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২৯ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার প্রায় ৯০ শতাংশ সড়ক বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। মোট ৩৩০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ২০ কিলোমিটার পাকা এবং ৭০ কিলোমিটার মাটির রাস্তা রয়েছে।
পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় বৃষ্টি ও বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে দিনের পর দিন সড়কে পানি জমে থাকে।
প্রকল্পের আশ্বাস পৌর কর্তৃপক্ষের
পিরোজপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন বলেন, পিরোজপুর জেলার তিনটি পৌরসভাকে নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা ও ড্রেনের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। আগামী দু-এক বছরের মধ্যে এসব ভাঙাচোরা রাস্তার সমস্যার সমাধান হবে।
তবে পৌরবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় না থেকে জনদুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে চলাচলের অনুপযোগী সড়কগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু শহরের প্রধান সড়ক নয়, ওয়ার্ডভিত্তিক সড়কগুলোরও দ্রুত সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে এবং জনদুর্ভোগও বাড়তে থাকবে।