সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট বাজার এলাকার একটি বসতবাড়িতে সাপটি ঢুকে পড়ে। পরে বিষয়টি জানিয়ে সংগঠনটির হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে এএলপির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কাওসার ওরফে হৃদয় ঘটনাস্থলে যান। এরপর তল্লাশি চালিয়ে বসতবাড়ি থেকে বড় কৃষ্ণকালাচটি উদ্ধার করেন তিনি।
এএলপি জানিয়েছে, বরগুনা জেলায় এর আগে বড় কৃষ্ণকালাচ উদ্ধারের কোনো রেকর্ড তাদের জানা নেই। বরিশাল বিভাগেও এ প্রজাতির সাপ খুব কম দেখা যায়। সর্বশেষ পিরোজপুরে এ সাপ পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
.png)
সংগঠনের পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, বড় কৃষ্ণকালাচ অত্যন্ত বিষধর ও নিশাচর সাপ। দিনের তুলনায় রাতে এটি বেশি সক্রিয় থাকে এবং সাধারণত রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয়। অন্যান্য সাপ এদের অন্যতম প্রধান খাদ্য। বিশেষ করে ছোট সাপ শিকার করে থাকে।
তিনি বলেন, ‘তালতলী থেকে উদ্ধার করা বড় কৃষ্ণকালাচটি বরগুনা জেলায় এ প্রজাতির সাপ উদ্ধারের প্রথম রেকর্ড বলে আমাদের জানা গেছে। বসতবাড়িতে ঢুকে পড়লেও সাপটিকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার করা সাপটিকে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।
আসাদুল্লাহ হাসান মুসা আরও বলেন, ‘সাপ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা করা উচিত নয়। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের খবর দিতে হবে। এতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীকেও রক্ষা করা সম্ভব। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাপসহ প্রতিটি বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী জানায়, ২০১৯ সাল থেকে সংগঠনটি পটুয়াখালীসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সাপসহ বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।