ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চিকিৎসক সংকটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল

৭৪ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২৪, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম
আল হাবিব, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৪:৫৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিকিৎসক সংকটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ৭৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৪ জন। অর্থাৎ ৫০টি পদই শূন্য। এর মধ্যেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালটির সীমিত শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন আট থেকে নয় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা।

হাসপাতালটি সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। ২০০৯ সালে ১০০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে শয্যা বাড়লেও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের ৭৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৪ জন। ৫০টি পদই শূন্য। ৫০ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। নার্সের ২৬৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৯৬ জন; শূন্য রয়েছে ৬৭টি পদ। এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য কর্মীর ১৩৬টি পদের মধ্যে ১০৮টি পদ শূন্য।

Advertisement

সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা দিয়েছে শিশু ওয়ার্ডে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায় অর্ধেকই শিশু বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ শিশু রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র একজন।

হাসপাতালে হৃদরোগ, দন্ত, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও হাড়জোড়া বিভাগেরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে এসব রোগে আক্রান্তদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যার সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, সিঁড়ির মুখসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনেরা বলেন, চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালটির স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হলে আগে হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দূর করা প্রয়োজন।

শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ নার্স তানজিনা আক্তার বলেন, শিশু ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৫০ জন। কিন্তু প্রতিদিনই ২৫০ জনের বেশি শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগীর পাশাপাশি কয়েক গুণ স্বজন ও অভিভাবক থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে। প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৯০০ বা তারও বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভর্তি রোগীদের প্রায় অর্ধেকই শিশু। জনবল সংকট থাকলেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালের পানি সরবরাহসহ আরও কিছু সমস্যা রয়েছে। এগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সেবা প্রত্যাশীদের দাবি, জেলার বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি শয্যা বাড়ানো ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করে সুনামগঞ্জবাসীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!