ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ডিলারের গুদামের সাটার-বেড়া ভেঙে সার লুট!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫০, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিলারের গুদামের সাটার-বেড়া ভেঙে সার লুট!
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একটি সার ডিলার পয়েন্টে উত্তেজিত কৃষকেরা গুদামের সাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সার লুটের ঘটনা অস্বীকার করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। তাদের দাবি, সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হলেও লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড়ে মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির সদস্যরা এলাকায় টহল দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত থেকেই সার পাওয়ার আশায় মহিলা কলেজ মোড়ে ডিলার পয়েন্টের সামনে কৃষকেরা অবস্থান নেন। সোমবার সকাল ৯টার দিকে ডিলার মতিউর রহমান কৃষকদের জানান, পুলিশ এনে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পুলিশ না আসায় কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

Advertisement

পরে বেলা ১১টার দিকে একদল উত্তেজিত কৃষক গুদামের সাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় গুদাম থেকে আনুমানিক ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের সার ডিলার মো. মতিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা বেলা ১১টার দিকে গুদাম থেকে আনুমানিক দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ‘ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিন শেষে হিসাব করে বলা যাবে।’

তবে সার লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, ‘সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ করা হচ্ছে। ফেসবুকে সার লুটের যেসব খবর ছড়াচ্ছে, তা সঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা ধৈর্য ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সার নিলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করছেন তিনি।

রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবিরও সার লুটের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘অনেক ভ্যান ও রিকশাচালকসহ কৃষক নন এমন লোকজনও সার নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তারা সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন।’

রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারসংকট সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, তিনি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’

এদিকে সার নিয়ে উত্তেজনা ও গুজব ঠেকাতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কুড়িগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!