ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, খুবির ৪ শিক্ষার্থী আসামি

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, খুবির ৪ শিক্ষার্থী আসামি
নিহত আজমুল। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ৩৪ ধারায় করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।

Advertisement

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকৃত ঘটনা উদযাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মধ্যে আগে থেকেই ঝামেলা ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়ে তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন। ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং পরে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

তার মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছিল, যার প্রমাণ ঘটনাস্থলেই মিলেছে। পরে ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, আজমুলকে কীভাবে মারধর করা হয়েছিল, মারধরের পর তাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল নাকি অন্য কোনোভাবে তিনি নিচে পড়ে গিয়েছিলেন—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও উদ্ধারকৃত আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।

নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ওই এলাকার মসজিদ গলির মেসে ভাড়া থাকতেন।

এদিকে আজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বরেন, আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে আজমুল। এক বছর আগে সে বাড়ি থেকে খুলনায় লেখাপড়ার জন্য আসে। গত বছর সে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। মাত্র ১০ দিন আগে সে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে বাড়ি যায়। শুক্রবার রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায়, এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই লক্ষ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের পরে ফোন দেই, কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। ট্রেনে করে খুলনায় এসে পৌঁছাই সকাল ৬টার পরে। সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। কিন্তু, শিক্ষার্থীরা বলে, আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বললো, চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হসপিটালে আছে।

হাসপাতালে এসে দেখলাম ওরা অতিরিক্ত মারধর করে মেরে ফেলছে৷ আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে, আমরা পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!