ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সচল মুদ্রাও আজ অচল

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী
প্রকাশিত: ১২:৩৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সচল মুদ্রাও আজ অচল
হারিয়ে যেতে বসেছে সচল ধাতব মুদ্রা। ছবি: সংগৃহীত

হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলাদেশের সচল ধাতব মুদ্রা। প্রাচীন যুগে যেসব দেশ সভ্যতার দিক থেকে এগিয়ে যায় তারাই ধাতব মুদ্রা ব্যবহার করে।  ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ সর্বপ্রথম বাংলাদেশি মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। সরকারি মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা। 

পরবর্তীতে এই টাকাকে প্রকাশের চিহ্ন বা সংকেত হিসাবে ‘৳’ নির্ধারণ করা হয়। টাকার সর্বনিম্ন একক নির্ধারণ করা হয় এক টাকা। আর এক টাকার শতাংশকে পয়সা নামে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ ৳ ১ সমান ১০০ পয়সা।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সা মূল্যের ধাতব মুদ্রার প্রচলন করা হয়। এর পর ৭৪ সালে ১ পয়সা এবং তার পর ৭৫ সালে ১ টাকা ধাতব মুদ্রার প্রবর্তন হয়। অতঃপর ‘৳’ দুই মূল্যের ধাতব মুদ্রার প্রচলন করা হয়। বর্তমানে ৫ টাকা মূল্য মানের ধাতব মুদ্রার প্রচলন রয়েছে।
জানা যায়, ২০০৪ সালে ‘স্টিল’ এর তৈরি ২ টাকার মুদ্রা ইস্যু হয়। এই মুদ্রা নকশার সামনের দিকে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক। এর কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল। ফুলটিকে বেষ্টন করে আছে দুটি ধানের শীষ।
২০১৩ সালে ২ টাকা মূল্যমানের ৫০ কোটি ধাতব মুদ্রা (কয়েন) তৈরিতে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের সংঙ্গে চুক্তি করে সরকার। মুদ্রার সম্মুখভাগে জাতীয় প্রতীক আর বিপরীত ভাগে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি।
দেশে বর্তমানে পয়সা আকারে ধাতব মুদ্রা চালু আছে। কিন্তু দৈনন্দিন কেনাকাটা বা লেনদেনে ১, ৫, ১০ ও ২৫ পয়সার ধাতব মুদ্রার ব্যবহার আর দেখা যায় না এখন। ৫০ পয়সার ব্যবহার মাঝে মাঝে দেখা গেলেও অন্য চার ধরনের পয়সা কার্যতই অচল। বাস্তব জীবনে কাজে না লাগা এসব পয়সা আইনগতভাবে সচল। অর্থাৎ সচল মুদ্রা বাস্তবে আজ অচল। আর এই বাস্তবে অচল মুদ্রাই শুধু নয়। 
১ টাকা ২ টাকার মানের ধাতব মুদ্রা এখন ভিক্ষুকের হাতে তুলে দিতে চাইলেও তারা তা গ্রহণে ভাবনায় পড়ে যায়। তাছাড়াও দোকানপাট, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, এমনকি বিভিন্ন ব্যাংকেও ১, ৫, ১০ ও ২৫ পয়সার ধাতব মুদ্রার লেনদেন চোখে পড়ে না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে জারিকৃত এক সার্কুলারে সকল ব্যাংক শাখাকে গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েন নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু গ্রাহকের পকেটে এসব ধাতব মুদ্রা না থাকলে লেনদেন করবে কিভাবে?
১ পয়সা, ৫ পয়সা, ১০ পয়সা, ২৫ পয়সার ধাতব মুদ্রা আগামি প্রজম্মের কাছে অচেনা হয়ে থাকবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। আর ১০০ পয়সায় ১ টাকা এই কথাটিও এক সময় বইয়ের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!