মদনপুরের ১৫ হাজার মানুষের ভরসা ব্যক্তি উদ্যোগের নৌ-অ্যাম্বুলেন্স
ভোলার দৌলতখান উপজেলার বিচ্ছিন্ন মদনপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি উদ্যোগে চালু করা হয়েছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। শনিবার দুপুরে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির উদ্বোধন করেন মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল উদ্দিন চকেট।
নদীবেষ্টিত মদনপুর ইউনিয়নটি উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ভোলা সদর হাসপাতালে নিতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।
.png)
ইউনিয়নের পাটোয়ারী বাজার, চর বৈরাগী, মধুপুর, চর টগবি ও চর মুন্সিসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই যুগেরও বেশি সময় আগে বসতি গড়ে উঠলেও এখনো পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকায় নিয়মিত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট রয়েছে। ফলে অসুস্থ হলে অনেকেই স্থানীয় ফার্মেসি কিংবা অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করেন। গুরুতর রোগীদের মাছ ধরার ট্রলারে করে উপজেলা সদর কিংবা ভোলা শহরে নিতে হয়।
স্থানীয়দের জন্য এর আগে সরকারি উদ্যোগে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে জরুরি সময়ে রোগী পরিবহনে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। শুধু মদনপুর নয়, ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের জন্য দেওয়া চারটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকার তথ্য রয়েছে।
এ অবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগে চালু হওয়া নতুন নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি মদনপুরের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থ রোগী, প্রসূতি নারী ও শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া যাবে।
উদ্বোধনকালে জামাল উদ্দিন চকেট বলেন, মদনপুর ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি অচল থাকায় রোগীদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ব্যক্তি উদ্যোগে এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীবেষ্টিত এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য জরুরি রোগী পরিবহনে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রসূতি, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে।
মদনপুরের বাসিন্দা আব্দুল খালেক, রহিম মাঝি ও গফুর মিয়া বলেন, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় জরুরি মুহূর্তে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তারা। তবে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের এই ইউনিয়নে স্থায়ী ও মানসম্মত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন অচল থাকা সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটিও দ্রুত সচল করার দাবি জানান তারা।