ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বদলে গেলো খুলনার চেহারা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২১, ৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বদলে গেলো খুলনার চেহারা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম খুলনায় সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনসহ বাগেরহাট জেলা সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বর্ণিল সাজে প্রস্তুত হচ্ছে খুলনা। প্রথাগত তোরণ বা প্লাকার্ডের বদলে নগরীর বিভিন্ন দেওয়ালে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফুটিয়ে তুলে দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি ও ম্যুরাল আঁকা হয়েছে। শিববাড়ি মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপগুলো নতুন রঙে সাজানো হয়েছে। প্রতিদিনের চেনা নগরী ধারণ করছে নতুন রূপ। নগরীর এই নতুন সাজে যুক্ত হয়েছে উৎসবের আবহ, সৃষ্টি হয়েছে বাঁধভাঙা উল্লাস, আনন্দ ও অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

নগরকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক রূপে তুলে ধরতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে রাস্তা ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে খুলনা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় সভা করেছেন।

এদিকে সার্কিট হাউস মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে দিন-রাত কাজ করছেন খুলনা সিটি করপোরেশন, বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন ৫ নভেম্বরের দিকে। নগরীর এমন পরিবর্তন দেখে কেউ কেউ হাস্যরসের ছলে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি মাঝে মধ্যে খুলনায় আসতেন, তাহলে নগরী আর কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকত না।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের লাখো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র দ্বিতীয় আসর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগর লবি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সফরকে কেন্দ্র্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি খুলনার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সমস্যাগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে স্থানীয় মানুষের।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি:

খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় দিনব্যাপী সরকারি সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি এ দুই জেলায় একাধিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

সকাল ১০টায় মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগদান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২টি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বন্দর এলাকার কর্মসূচি শেষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে সড়কপথে হযরত খান জাহান আলী (রঃ)-এর মাজার শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে জিয়ারত করবেন।

দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মাজার শরীফ থেকে সড়কপথে খুলনা শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন এবং সেখানে কিছু সময় বিরতি নেবেন।

এরপর বিকেল ৩টায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন।

বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিপ্যাডে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন এবং বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট ও খুলনা জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!