ঢাকা,  সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

পুনর্বিনিয়োগের আয়েই বাড়ল এফডিআই

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৩১, ১২ অক্টোবর ২০২৬
পুনর্বিনিয়োগের আয়েই বাড়ল এফডিআই
সংগৃহীত ছবি

দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল নতুন মূলধনি বিনিয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশে ব্যবসা করা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়। একই সময়ে নিট ইকুইটি মূলধন ও আন্তঃকোম্পানি ঋণের প্রবাহ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্জিত মুনাফার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার এ দেশেই বিনিয়োগ করেছেন। এটি দেশে বিদ্যমান বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, নতুন নিট ইকুইটি মূলধন বিনিয়োগে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেছে। এ খাতে বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ৭৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ ছাড়া নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণপ্রবাহ ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩৩ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপ্রবাহ এলেও বিদ্যমান ঋণের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিশোধ হওয়ায় নিট প্রবাহ কমেছে।

খাতভিত্তিক ও অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি ছিল। এপ্রিল–জুন ২০২৬ প্রান্তিকে এ খাতে নিট বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যদিও আগের প্রান্তিকে এ খাতে নিট বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিনিয়োগ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

সারা দেশে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে কাজ করছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সংস্থাটির মতে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে আসা এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে, যা ইতিবাচক। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব রক্ষণশীল হওয়ায় নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এটি দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনার প্রতি তাদের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নাহিয়ান রহমান রচি আরও বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে, যাতে আরও বেশি এবং উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সংস্থাটি।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পটি এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। এখন প্রকল্পটির উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে ইতোমধ্যে সম্পন্ন কাজ এবং যেসব ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জানানো হবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যেন শুধু আলোচনা ও ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রূপ নেয়—এটাই তাদের লক্ষ্য।

২০২৬ সালের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হলেও এর বড় অংশ এসেছে বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ থেকে। নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ঘোষিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!