ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

পাঁচ দেশ থেকেই এলো ৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
পাঁচ দেশ থেকেই এলো ৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স
সংগৃহীত ছবি

দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। এর প্রায় ৬০ শতাংশই এসেছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া থেকে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৫০৯ কোটি ডলার।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৭৫৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০১ কোটি ডলার বা প্রায় ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।

চলতি অক্টোবরেও রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে এসেছে ১১৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।

দেশভিত্তিক হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ১৬৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ হুন্ডি লেনদেন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়তা করছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশপাশে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আমদানি ব্যয় বাড়লেও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহের মধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে গত জুনে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ওই সময় বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। তখন বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

এরও আগে ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নানা অর্থনৈতিক চাপে রিজার্ভ কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে তা আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!