কাটাকুটি খেলা: অভিনয়ে শিক্ষক, পরিচালনায় শিক্ষার্থী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্রের’ ব্যানারে সম্প্রতি টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া একটি নাটক ‘কাটাকুটি খেলা’। নাটকটির পরিচালনা করেছেন মানব মিত্র। অন্যদিকে অভিনয় করেছেন তার শিক্ষক মনোজ প্রামাণিক।
মানব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। এই বিভাগেরই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকটি প্রযোজনাও করেছেন মনোজ।
জানা যায়, ঈদের এই নাটকটিতে মনোজ প্রামাণিকের সঙ্গে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির, ফারুক আহমেদ, মুনসিফ মিমসহ আরো অনেকে। রোমান্টিক ঘরানার এ নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মানব মিত্র। এছাড়াও নাটকটির গল্প লিখেছেন গোলাম মুন্তাকিম। চিত্রগ্রহণে ছিলেন সামিউল করিম সুপ্তক এবং সম্পাদনায় ছিলেন শাহরিয়ার সিজু। তারা সবাই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
নাটকটির নির্মাণ প্রসঙ্গে পরিচালক মানব মিত্র বলেন, ‘টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া একটি পূর্ণাঙ্গ নাটকের কথা বললে এটি আমার পরিচালনা করা প্রথম নাটক। এর আগের ঈদে মনপাচিত্রের ‘সাত দুগুণে চৌদ্দ’-তে একটি ২০ মিনিটের নাটক পরিচালনা করেছি। প্রথম নাটকেই নিজের বিভাগের শিক্ষক মনোজ স্যারকে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এছাড়াও অভিনেত্রী সাফা কবিরও দারুণ জনপ্রিয়। তাদের সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। পড়ালেখা ও একাডেমিক ব্যস্ততার পাশাপাশি ঢাকা গিয়ে শ্যুটিং করায় একটু চাপে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সবার সহযোগিতায় সুন্দরভাবে আমরা নাটকটি করতে পেরেছি এবং দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছি।’
তিনি জানান, নাটকটির শ্যুটিং হয়েছে রাজধানীর কাওলা ফুটওভার ব্রিজ, উত্তরার কামারপাড়া এবং আজিমপুরের কিছু এলাকায়। আউটডোরে বেশিরভাগ অংশ শুটিং করতে হয়েছে। এ কারণে রাস্তাঘাট, মানুষজনের ভিড় কাটিয়ে শুটিং করাটা বেশ কঠিন ছিল। প্রায় একটানা ২৪ ঘণ্টাও কাজ করতে হয়েছে আমাদের।
শিক্ষার্থীর পরিচালনায় অভিনয় করার অনুভূতি জানতে চাইলে অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীর পরিচালনায় অভিনয় করলাম- এটা প্রথমবার নয়। এর আগেও গোলাম মুন্তাকিম, মুনসিফ মীম, আসাবুল রিয়াদ এবং আরো দু-একজনের পরিচালনায় আমি কাজ করেছি। এবারে মানব মিত্রের পরিচালনায় কাটাকুটি খেলায় অভিনয় করলাম। সবার সঙ্গেই কাজ করতে গিয়ে যেটা দেখেছি - পরিচালনায় তারা নতুন হলেও কন্টেন্ট অনুযায়ী বা ক্যারেক্টার বোঝানোর ক্ষেত্রে তাদের নতুন মনে হয়নি। বরং তারা খুব বুঝেশুনে পরিষ্কার হয়ে কাজ করে- এটুকু মনে হয়েছে। এজন্যই তাদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করা। তাদের এই ম্যাচুরিটির ওপর ভরসা আছে। আর আমি যাদের পড়াচ্ছি তাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে ভীষণ আনন্দ হয়। তারা যখন ডিরেকশন দেয়, সে অনুযায়ী কাজ করতে খুব আনন্দ লাগে, খুব প্রাউড ফিল হয়। একই সঙ্গে তারা নতুন হওয়ায় তাদের পরিচালনায় কাজ করতে কিছু কষ্টও হয়, কিন্তু সে কষ্টটাও একটা আনন্দ।’
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে গত ২৭ এপ্রিল রাত ৮টায় এই নাটকটি প্রচারিত হয়।