ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

যে ৫ ঘূর্ণিঝড় দেশকে দিয়েছে দুঃসহ স্মৃতি

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৪১, ১০ মে ২০২২
যে ৫ ঘূর্ণিঝড় দেশকে দিয়েছে দুঃসহ স্মৃতি
১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ। ছবি : সংগৃহীত

ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অশনি। অশনি শেষ পর্যন্ত হয় সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, নতুবা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এমন অনেকগুলো বড় আকারের ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। সেসব দিক বিবেচনায়, উপকূলবাসীর কাছে ঝড় যেন নিয়তির অংশ। ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া কিছু ঝড়ের সেই স্মৃতিচারণের চিন্তাই যেন দুশ্চিন্তায় রূপ নেয় উপকূলের মানুষের।  

আজ এমন পাঁচটি ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কথা হচ্ছে, যা দেশকে দিয়েছিল দুঃসহ স্মৃতি।

Advertisement

ভোলা ঘূর্ণিঝড় (১৯৭০)

১২ নভেম্বর ১৯৭০, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আঘাত হানে শক্তিশালী এক ঘূর্ণিঝড়। যার নাম ছিল ‘ভোলা সাইক্লোন’। সে আঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়। সেদিন মানুষের মৃত্যুর মিছিলে কেঁদেছিল সারা বিশ্ব। প্রাণ হারায় অগণিত গৃহপালিত পশু ও বন্য প্রাণী। দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাছপালা ও ঘরবাড়ি। নষ্ট হয় হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। সেদিন তীব্র জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে ভেসে যায় হাজার-হাজার মানুষ, যাদের অনেকেরই আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এই অঞ্চলের ইতিহাসে ভোলা ঘূর্ণিঝড় ছিল অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উরিরচরের ঘূর্ণিঝড় (১৯৮৫) 

উরিরচরের ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত এই সাইক্লোনটির বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫৪ কিলোমিটার। তীব্র ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী এবং উপকূলীয় অঞ্চলে (সন্দ্বীপ হাতিয়া ও উড়ির চর) আঘাত হানে। এ সময় প্রায় ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

সুপার সাইক্লোনিক ঝড় বিওবি ১ (১৯৯১)

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রচণ্ড এক ঘূর্ণিঝড় দেশের উপকূলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ছিল প্রায় ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ মাইল। এ ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ। গবাদি পশু, ফসল ও সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। প্রায় এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে।

ঘূর্ণিঝড় সিডর (২০০৭)

২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। জোয়ারের সময় হয়নি বলে প্লাবন কম হয়েছে, ফলে তুলনামূলক মানুষ কম মারা গেছে, কিন্তু অবকাঠামোগত অনেক ক্ষতি হয়েছে, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সিডরে রেডক্রসে হিসেবে ১০ হাজার মারা গেছে বলা হলেও সরকারিভাবে ৬ ছয় হাজার বলা হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় আইলা (২০০৯)

২১ মে ২০০৯ তারিখে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় আইলার এবং উপকূলভাগে আঘাত হানে ২৫ মে তারিখে। সিডরের মতোই আইলা প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে, তবে পরে বাতাসের বেগ ৮০-১০০ কিলোমিটার হয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি, সিডরের তুলনায় তুলনামূলক কম হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আইলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে খুলনার দাকোপ ও কয়রা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ৭৬ কিলোমিটার বাঁধ পুরোপুরি এবং ৩৬২ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ধ্বসে পড়ে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!